সরকারের আমন্ত্রণে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ কাকলির, উপস্থিত তৃণমূলের আরও তিন বিধায়ক

কলকাতা, ২৬ মে- পরিবর্তনের বাংলায় এবার নজিরবিহীন ছবি। কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের এক সাংসদ ও তিন বিধায়ক। বিশেষত বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি নিয়েই তৈরি হয়েছে জল্পনা। বৈঠকে যোগদান নিয়ে কাকলিকে প্রশ্ন করা হলে সংক্ষিপ্তভাবে তার উত্তর, ‘প্রশাসন সবার।’

            তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরানোর পর থেকেই কিছুটা বেসুরো বারাসাতের সাংসদ, সেই ঘটনাকে চার দশকের আনুগত্যের পুরস্কার বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। রবিবার বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। আর মঙ্গলবার সরকারের ডাকে সরাসরি পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে। কাকলিকে মঞ্চেও ডেকে নেন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা বৈঠকে তাকে মঞ্চে দেখা গিয়েছে। শুধু বারাসাতের সাংসদ নন, উত্তর চব্বিশ পরগনার তিন বিধায়কও সরকারি আমন্ত্রণ পাওয়ার পরে যোগ দেন আজকের এই বৈঠকে। এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক ছিল। সেখানে কাকলি ছাড়াও ছিলেন দেগঙ্গার সদ্যনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল এবং হাড়োয়ার আব্দুল মতিন। আনিসুরকে বৈঠকে উপস্থিত থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিধানসভা এলাকার অধিকাংশই প্রান্তিক জায়গা। সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের সহযোগিতা কাম্য।’ পূর্বতন সরকারের আমলে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হতো না বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আনিসুরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমবার বিধায়ক হয়েছি। আগের কথা তো বলতে পারব না।’

            বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের এই উপস্থিতিকে অনেকেই দীর্ঘ ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র বদল হিসাবেও দেখছেন। শুভেন্দু এই সংস্কৃতির বদল ঘটিুয়েছেন। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এ বার ওই সমস্ত বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। বিজেপির সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই কাকলি-সহ তৃণমূলের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে। এখানে কোনও রাজনীতি নেই। স্বরূপনগরের বিধায়ক বীনা মন্ডল বলেন, ‘আমি আমার বিধানসভা এলারকার উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক বৈঠকে এসেছি।’ হাড়োয়ার বিধায়কের মন্তব্য, ‘রাজ্য সরকার ডেকেছে। তাই এসেছি। আগে কী হয়েছে, বলতে পারব না। বিধায়ক হিসাবেই এসেছি।’ সরকারি অনুষ্ঠানে বিরোধীদের আমন্ত্রণ জানানোকে সমর্থন করেছেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘খুব সদর্থভাবে দেখছি। বিরোধীদের কথা বলতে দেওয়া একটা সদর্থক পদক্ষেপ। আগে বিরোধীদের যে ডাকা হতো না সেটা স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। আমার এখানেও কাল একটি সরকারি অনুষ্ঠান রয়েছে। তবে সেটা প্রশাসনিক বৈঠক নয়। তাও আমাকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি যাব।’

মুখ্যমন্ত্রী আজকের এই বৈঠকের পরেও জানিয়েছেন, এবার থেকে সরকারি প্রশাসনিক বৈঠকে স্থানীয় বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনিক বৈঠকে বিশেষ বিশেষ এমপিদের ডাকব। আজকে বিশেষ বিশেষ এমপিদের মধ্যে বারাসতের এমপিকে আমরা বিশেষ বিশেষভাবে ডেকেছিলাম। তিনি সহযোগিতাও করেছে। যারা অনেকদিন পরে সত্যি কথা বলছেন, যারা আমাদের বলছেন অনেকদিন পরে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি তারাই বিশেষ।’

Sumit Chakraborty: