মধ্যপ্রাচ্যে তুমুল সংঘাতের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক ও শিল্প উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলেরউপর্যুপরি যৌথ হামলার পর দেশের অভ্যন্তরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের আইনপ্রণেতা ও কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহল মনে করে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে আসা উচিত এই সময়ে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, হেভি ওয়াটার উৎপাদন এবং ইস্পাত কারখানাগুলো সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিশ্ববিদ্যালয় গুলিও যৌথ হামলাকারীদের লক্ষ্য পরিণত হয়েছে। হামলায় দেশটির পারমাণবিক পরিকাঠামো ও শিক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে ধারণা। এর আগেও মার্কিন টমাহক মিসাইল ও বোমাবর্ষণে বেশ কতগুলি স্কুল ও কলেজ ধ্বংস হয়েছে এবং ইরান দাবি করেছে এতে ১০০০ এর উপরে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক নিহত হয়েছে।
ফলে ইরানের নীতিপ্রণেতা সহ নেতারা মনে করছেন, এই সময়ে এনপিটি অর্থহীন। এর থেকে বেরিয়ে আসার দাবি এখন জোরদার। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠী মনে করছে, এনপিটি-তে থাকা এখন আর দেশের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক নয়। তাদের যুক্তি, আন্তর্জাতিক এই চুক্তি ইরানকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে, অথচ প্রতিপক্ষ দেশগুলো সরাসরি সামরিক হামলা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান এনপিটি থেকে সরে আসে, তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের পথে এগোতে পারে, যা এই অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করে তুলবে। আবার ইজরায়েল যে রকম অঘোষিত ভাবে পরমাণু শক্তিধর সেই একই পথে আচমকা ইরানও তীব্র যুদ্ধের মধ্যে একদিন পরমাণু শক্তিধর হয়ে উঠতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় যে সংঘাতের সূচনা হয়, তা বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। এই সময়ে ইরানের পক্ষে এই ধরনের ঘোষণা দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বারবার ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রপুঞ্জের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের প্রক্তন, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসিকে ‘অপরাধের সহযোগী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার নিন্দা না জানিয়ে গ্রোসি শত্রুদের উসকানি দিচ্ছেন, যা ইরানকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সম্প্রতি আইএইএর প্রধান গ্রোসি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, পারমাণবিক যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো পথে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এ মন্তব্যকে যথেষ্ট উসকানিমূলক হিসেবে দেখছে তেহরান। অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরান যদি এনপিটি থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পারমাণবিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক হবে।