দাঁ বাড়িতে এসে গয়না পরেন দেবী দুর্গা, অলঙ্কার আসত ফ্রান্স ও জার্মানি থেকে

কলকাতা, ২ অক্টোবর- কলকাতা জোড়াসাঁকোর শিবকৃষ্ণ দাঁ বাড়ির পুজো এবার ১৮৭ বছরে পা দিল। এই বাড়ির পুজো ঘিরে আছে নানা কাহিনি। কথিত, দুর্গা মর্তে এসে দাঁ বাড়িতে যান গয়না পরতে। পরে যান অন্যান্য ভক্তের কাছে।
শোনা যায়, শিবকৃষ্ণ দাঁর বাড়িতে দুর্গাকে পরানোর জন্য একসময় ফ্রান্স ও জার্মানি থেকে অলঙ্কার ও পোশাক আসত। সে কাপড়ে বসানো থাকত রং-বেরঙের পাথর। থাকত চোখ ধাঁধানো জরির কাজ। এর সঙ্গে বিভিন্ন রকমের ধাতু দিয়ে তৈরি প্রতিমার চালচিত্র বিদেশ থেকে আসত দাঁ বাড়ি। এ বাড়ির কলাবউ স্নানের সময় ভেলভেটের উপর সোনা-রুপোর-জরির কাজ করা ছাতা ধরা হয় আজও। দাঁ বাড়িতে রথযাত্রার দিন গরান কাঠ দিয়ে তৈরি কাঠামোর পুজো হয়। এরপর শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমা একচালার। ডাকের সাজ। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ থেকে পুজো শুরু। বলিদান হয় না। সিংহের রং সাদা। পুজোয় দুর্গাকে ভোগ হিসাবে দেওয়া হয় চাল, ডাল, নৈবেদ্যের সঙ্গে ফল-মিষ্টান্ন-লুচি-পাঁচ রকম ভাজা-নারকেল নাড়ু-ঝাল নাড়ু প্রভৃতি। নাড়ু তৈরি করেন বাড়ির মহিলারা। সন্ধিপুজোয় মহিলারা থাকেন না। ছেলেরাই পুজোর কাজকর্ম করেন। পুজোতে ধুনো পোড়ানো হয়। হয় কুমারীপুজো।
আগে প্রতিমা কাঁধে করে নিরঞ্জন দেওয়া হত। এখন যায় লরিতে। দশমীতে বাড়ির মেয়েরা গয়না পরেন। দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় ১৩টি শাড়ি, ১০টি কাঁসার পাত্র দেওয়া হয়। জ্বালানো হয় ১০৮টি পিতলের প্রদীপ। জানা গিয়েছে, একসময় পুজোর সময় হত গানের অনুষ্ঠান। নামকরা শিল্পীরা অংশ নিতেন। মঞ্চস্থ হত নাটক। উপস্থিত থাকতেন বহু মানুষ। এ বনেদি বাড়ির গঠনশৈলী চোখজুড়ানো। ঠাকুরদালান ও ভবনে রয়েছে নানা ধরনের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য।
শিবকৃষ্ণ দাঁ ছিলেন বড়ো ব্যবসায়ী। তিনি বহু রকমের ব্যবসা করে প্রচুর টাকা রোজগার করেছিলেন। পারিবারিক ব্যবসার বৃদ্ধি করেছিলেন। ছিলেন সৌখিন একজন মানুষ।
সোনার অলঙ্কার পরতেন। তখন থেকেই পুজোর জাঁকজমক বাড়তে থাকে। তাঁরই উদ্যোগে পুজোয় দুর্গাকে অলঙ্কার ও দামি পোশাক পরানো হত। তা বিদেশ থেকে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জোড়াসাঁকোয় এই বাড়ির কাছে শিবকৃষ্ণের নামে রাস্তা আছে।

Sumit Chakraborty: