২০০০ সালের সিনেমা, বলিউডের পালাবদলের শুরু
সে এক সময় ছিল। যখন ভারতের হিন্দি সিনেমায়, স্পষ্টতই ভাগ ছিল দু’টি। মূলস্রোতের সিনেমা ও আর্ট হাউজ সিনেমা। পাশাপাশি ছিল সমান্তরাল বা প্যারালাল সিনেমার একটা ধারাও। সত্তর, আশির দশকে এই তিন ধারার সিনেমাতেই হিন্দি চলচ্চিত্র নির্মাতারা এক ধরনের নিজস্বতা তৈরি করতে পেরেছিলেন। মূলস্রোতের সিনেমায় সত্তরের দশক যদি হয় মূলত রাগী যুবকদের রাগ, রোম্যান্স, নীতি-নৈতিকতার গল্প, আর্ট হাউজ সিনেমায় তা মূখ্যত ছিল শ্রেণী বৈষম্য, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক ইস্যু, নারী-পুরুষ সম্পর্ক ইত্যাদি কেন্দ্রীক – আসলেই যা ছিল সমাজের প্রতিচ্ছবি, অন্যদিকে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল, এই দুইয়ের মাঝামাঝি একটি সমান্তরাল সিনেমার ধারা। যেখানে সমাজ-বাস্তবতার পাশাপাশি অনেক সময়েই প্রেম, মানুষের সম্পর্ক, ব্যক্তি-মানুষের বহুস্তরীয় অবস্থান কখনো গুরু-গম্ভীর, কখনো বা কিছুটা স্যাটায়ারিকাল, কখনো বা কমেডির মোড়কে। এই দশকে এই তিন ধারার সিনেমার মধ্যেই এক ধরনের ভারসাম্য বা সাযুজ্য থাকতে অনেক সময়েই দেখা যেত, সম্ভবত তা সেই দশকের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই। এই তিন ধারার সিনেমার ক্ষেত্রেই একটা আমূল পরিবর্তন দেখা গেল আশির দশকে। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে সমাজ-অর্থনীতি-রাজনীতির ক্ষেত্রে একটা বড় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে ভারতে। প্রজন্মগত পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, পৃথিবীর বদলাতে থাকা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল রেখেই। সেই সময়ের মূলস্রোতের সিনেমায় প্রেম, পরিবার, খলনায়কের সঙ্গে সংঘর্ষ ইত্যাদিই মূল বিষয় হয়ে ওঠে, সমাজ-রাকনীতি চলে যায় দূরে। আর্ট হাউজ সিনেমা সেই সময়েও একই রকম ভাবে তৈরি হচ্ছিল আর উঠে আসছিল আশির দশকের বিশ্ব রাজনীতি ও ভারতে তার প্রতিফলিত বাস্তব। অন্যদিকে সমান্তরাল সিনেমার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে তা মূল্ধারার সিনেমার সঙ্গেই কিছুটা যেন এক রকম হয়ে যেতে শুরু করে এবং এই দুই ধারার মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই কমতে শুরু করে।
নব্বইয়ের দশকটি ছিল এমন এক সময় যখন হিন্দি ভাষায় আর্ট হাউজ সিনেমা তৈরি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় মূলস্রোতের ধারার বাইরে আর কোনোও সিনেমা-ই সে অর্থে তৈরি হত না। সমান্তরাল সিনেমা-ও তৈরি হয়েছে হাতে গোনা। মূলস্রোতের সিনেমায় মূলত অ্যাকশন-ধর্মী সিনেমা, তারমধ্যে কিছুটা রোম্যান্স-এর মিশেল দিয়ে এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি করা হচ্ছিল। বিনোদন ছাড়া আর কিছুই উদ্দেশ্য ছিল না, কোনোও রকম বার্তা দেওয়া তো নয়ই।
২০০০ সাল – নতুন শতক! সে কি দারুণ উত্তেজনা, উদ্দীপনা। হিন্দি সিনেমার দুনিয়াও তখন বলিউড। ২০০০ মানে কহো না পেয়ার হ্যায়। ২০০০ মানে রিফিউজি। একই বছরে হৃতিক রোশন, অভিষেক বচ্চন, করিণা কাপুর পা রাখছেন মায়া দুনিয়ায়। পুরো বদলে যেতে বসেছে বলিউডের মানচিত্র। ধীরে ধীরে বদলে যাবে সেখানকার সিনেমার ধরনও, আর যেমন আলাদা করে তৈরি হবে না আর্ট হাউজ সিনেমা, তেমনি নতুন, পুরনো অনেক পরিচালকই তৈরি করে নেবেন এমন এক নিজস্ব জঁনর যা মূলস্রোত আর সমান্তরালের মধ্যের দেওয়ালটুকু অদৃশ্য করে দেবে। একেবারেই মূলধারার সিনেমা যেমন নিয়ম মেনে থাকবেই, তেমনি আবার এই নতুন শতকের আধুনিকতা, উদারমনস্কতা, বিশ্বজনীন বিনোদনের প্রেক্ষিতে বলিউডেও এই সময়েই তৈরি হল এক নতুন সিনেমা ভাষা। এই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা করা যাক কয়েক জন পরিচালক ও তাঁদের সিনেমার বৈশিষ্ট্য।
রামগোপাল ভার্মা। না, যে রামগোপালকে এখনকার প্রজন্ম গুগল করে দেখবেন বা নানা বিতর্কে মাঝেমধ্যে দেখতে পাবেন, সেই ভার্মা নন। ইনি সেই আরজিভি যিনি সত্যা বানিয়ে সিনেমাপ্রিয় দর্শকদের জন্য এক নতুন সিনেমা অভিজ্ঞতা তৈরি করেছিলেন। ২০০০-এর অনেক আগে থেকেই তিনি সিনেমা তৈরি ও সাফল্য পেতে শুরু করলেও , ২০০০ পরবর্তী এক দশক ছিল রামগোপালের ‘বেস্ট অফ দ্য ইয়ার্স’। ১৯৮৯-তে যেমন তিনি তাঁর প্রথম সিনেম ‘শিভা’ দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি কালো ঘোড়া, তেমনি মিলেনিয়াম শুরুর ঠিক আগের বছর তিনি বানিয়ে ফেলেছেন শুধু তাঁর নিজেরই নয়, হিন্দি সিনেমারও অন্যতম সেরা সিনেমাগুলির একটি। ‘কৌন’। আরজিভি সেই পরিচালকদের একজন যিনি মূলধারা আর সমান্তরালের অদৃশ্য দেওয়ালটা ভেঙে ফেলেছিলেন। রামগোপালের সিনেমা একেবারেই বাস্তবের ছবি দেখাত, কিন্তু তারমধ্যে কাজ করত এক ধরনের সারিয়্যাল নির্মাণ। তিনি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার, ভূত-প্রেত ও অলৌকিক, ডাকাত, রোম্যান্স, আন্ডারওয়ার্ল্ড ও মাফিয়া রাজ – যা কিছু নিয়েই সিনেমা বানান না কেন, বাস্তব আর না-বাস্তবের মধ্যে এহেন মিশেল হিন্দি সিনেমায় আর কেউই তৈরি করতে পারেননি। যিনি ‘রঙ্গিলা’-র মতো সুপারহিট আদ্যোপান্ত বিনোদনের সিনেমা বানিয়েছেন, তিনিই যে ‘দৌড়’-এর মতো ফ্লপ অথচ একটি পুরোপুরি ‘ননসেন্স’ সিনেম্যাটিক ম্যাজিক তৈরি করতে পারেন, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। ২০০০ থেকে ২০১০-এর মধ্যে তিনি বানাচ্ছেন – জঙ্গল, কোম্পানি, ভূত, নাচ, সরকার, ডরনা জরুরি হ্যায়, নিশব্দ এবং বলা হয়ে থাকে, তাঁর স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘শোলে’-র রিমেক ‘রামগোপাল ভর্মা কি আগ’, যে সিনেমাটি থেকেই তাঁর জাদু হারাতে শুরু করে। ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকে আবহ সঙ্গীত, গান, অভিনেতা নির্বাচন, উর্মিলা মাতোন্ডকারের মতো জিনিয়াস অভিনেত্রীকে মিউজ হিসাবে পাওয়া, টানটান চিত্রনাট্য, নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেখার মতো সম্পাদনা এবং প্রত্যেকটি সিনেমার কাহিনীতে ট্যুইস্ট ও তার শেষ – এই এক দশকে রামগোপাল ভার্মার সিনেমার সিগনেচার স্টাইল হয়ে উঠেছিল এবং এই বৈশিষ্ট্যই তাঁকে আজও অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে। ভয়, দ্বন্দ্ব, কৌতুহল, পরাবাস্তবের অস্তিত্ব স্বীকার, যৌনতা, নারী শরীরের উপস্থাপনা, ভালবাসা ও প্রেম, সমাজের নানা শ্রেণী অবস্থান, অপরাধ ও দূর্নীতি এতটা উন্মুক্ত ও কিছুটা নিও-নয়্যাঁর ধরনে বলিউডে নিয়ে আসার কৃতিত্ব ‘আরজিভি’-র প্রাপ্য। পুনরাবৃত্তিতে যা নিজেই ক্লিশে করে ফেলেন।
ঠিক এই ধরনের সিনেমা তৈরির সামনা-সামনিই রাখা যাক আরেক পরিচালককে, যিনি এখনো হিট-ফ্লপের হিসাব না করেই দর্শক-সমালোচকদের অন্যতম পছন্দের পরিচালকদের তালিকার শীর্ষে থাকবেন – বিশাল ভরদ্বাজ। সিনেমার নন্দনতত্ত্বের আলোচনায় বিশাল সম্ভবত বলিউডের সেরাদের তালিকায় থাকবেন। গল্প বলতে পারা এক আশ্চর্য ক্লাসিক্যাল শৈলীতে। সিনেমার সঙ্গে সঙ্গীত, চিত্রনাট্য ইত্যাদি তৈরির মাধ্যমে অনেক আগে থেকেই যোগাযোগ থাকলেও ২০০৩-এ তিনি বানিয়ে ফেললেন ছোটদের প্রায় রূপকথার গল্পের মতো সিনেমা ‘মাকড়ি’ আর দর্শক অবাক দেখলেন ছোটদের সিনেমা (যা বানানো সবচেয়ে কঠিন অবশ্যই) কীভাবে মানুষের জীবনের না বলা, বিশ্লেষণ না করা নানা দিককে সত্যিই রূপকথার গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থিত করা যায়। এবং তারপর ‘মকবুল’ – হিন্দি সিনেমার ক্ষেত্রে ‘সিনেম্যাটিক এক্সিলেন্স’-এ এই সিনেমা নিঃসন্দেহে শীর্ষে জায়গা করে নেবে। শেক্সপিয়ার-এর ম্যাকবেথ, ওথেলো আর হ্যামলেট-কে ভারতের প্রেক্ষাপটে এনে তৈরি করা বিশাল-এর ‘মকবুল’, ‘ওমকারা’ আর ‘হায়দার’ – এই ট্রিলজি আবারও মূলস্রোত ও সমান্তরাল সিনেমার পার্থক্য মুছে দেয়। বক্স-অফিসের সাফল্য, মূলধারার অভিনেতাদের নির্বাচন, কোনোদিন পুরনো না হওয়া গানের ব্যবহার, নাচ সহ বা নাচ ছাড়া সেই গানের মুহূর্ত তৈরি করা, একইসঙ্গে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করা এই সবটাই বিশাল তাঁর একের পর এক সিনেমায় করে গেছেন। তাঁর সিনেমার বিষয়বস্তু সব সময়েই মানুষ। সাদা-কালো নয়, ধূসর মানুষেরা। মানুষের হৃদয়ের গহীন গোপনে যে ভাবনারা, যে আবেগেরা লুকিয়ে থাকে, স্বাভাবিক নীতিবোধে আটকালেও পারিপার্শ্বিকতা যেভাবে মানুষকে দিয়ে নানা কিছুই করিয়ে নিতে পারে, ক্যামেরার লেন্স দিয়ে তাই নিখুঁত ধরতে পারেন বিশাল। তাই সাহিত্য থেকে অনুপ্রাণীত হোক বা ‘কামিনে’-র মতো মৌলিক চিত্রনাট্যে ডার্ক কমেডি বিশাল বাজিমাত করেন সংলাপ, দৃশ্য নির্মাণ, আবহের ব্যবহারে। ‘হায়দার’ সিনেমায় রুহদার চরিত্রের পর্দায় হাজির হওয়া এর সেরা উদাহরণ হয়ে থাকবে। বিশাল যেভাবে ইরফান খান, কে কে মেনন, টাবু-র মতো অভিনেতাদের অন্যতম সেরা অভিনয় নিজের বিভিন্ন সিনেমায় বের করেছেন বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে তা অবাক করে দেয়। পাশাপাশি অজয় দেবগন, করিণা কাপুর, সইফ আলি খান, বিবেক ওবেরয় আর শাহিদ কাপুরের মতো পুরোপুরি মূল ধারার অভিনেতাদেরও চরিত্রানুযায়ী নির্বাচন ও কমফোর্ট জোন-এর বাইরে নিয়ে এসে কেরিয়ারের সবচেয়ে ভালো অভিনয়টি করিয়ে নেওয়ার মতো সিনেমাও তিনিই বানিয়েছেন। যদিও গত কয়েক বছরে কিছুটা যেন স্রোতের সঙ্গে চলছেন এই পরিচালক, শেষ মুক্তি পাওয়া ‘ও রোমিও’-ও সেই কথাই বলে। যদিও তাঁর মাপের পরিচালক কোনোও কোনোও দৃশ্যেও নিজের স্বাক্ষর রেখেই যান। আর অত্যুর পরিচালক বিশাল-ও আবার নিজের ঘরানায় ফিরবেন আশা রাখা যায়।
এই পর্যায়ে যে নাগরিক ও অত্যন্ত ক্ষমতাবান পরিচালকের কথা না বললেই চলবে না, তিনি সুধীর মিশ্রা। তিনিও বহু দিন যাবতই সিনেমা নির্মাণ করছেন, কিন্তু আবারও এই ২০০০ ও পরবর্তী সময়েই আমরা তাঁকে খুবই ভিন্ন ধরনের সিনেমা তৈরি করতে দেখি। এবং আজও তিনি নিজের শর্তে ও নিজস্ব ধারাতেই সিনেমা তৈরি করে চলেছেন। ২০০৩ থেকে পরবর্তী কয়েক বছরে তিনি একইসঙ্গে একেবারেই মূলধারার আবার তার পাশাপাশি নিজস্ব স্টাইলে যে মধ্যপথের সিনেমা তৈরি করতেন তা ধারাবাহিকভাবে করে গেছেন আর তার মধ্যে থেকেই দর্শকেরা পেয়ে গেছেন কিছু মাস্টারপিস। তিনি অনিল কাপুর, রাণী মুখার্জিকে নিয়ে যেমন ‘ক্যালকাটা মেল’ বানিয়েছেন, যা হতাশাজনকভাবে ফ্লপ করে এবং গুণগতভাবেও তা মিশ্রা-র মাপের ছিল না। এরপরেই তিনি চমকে দেন ‘চামেলি’ বানিয়ে। রাহুল বোসের মতো ক্ষুরধার অভিনেতার সঙ্গে নামভূমিকায় যৌনকর্মীর চরিত্রে সদ্য ইন্ডাস্ট্রিতে পা দেওয়া করিণা কাপুরকে নিয়ে তিনি নিজের চিরকালীন ছক ভাঙা পরিচালক সত্তাটিই তুলে ধরেন। করিণা সেই সিনেমাতেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। এবং তারপর সময়োত্তীর্ণ ‘হাজারো খোয়াইশে অ্যায়সি’। কে কে মেনন, চিত্রাঙ্গদা সিং, রাম কাপুর, সাইনি আহুজার অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনয়ই শুধু নয়, এই সিনেমা ভারতের এক নির্দিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক পটভূমিতে নারী-পুরুষ সম্পর্ক, নারী স্বাধীনতা, সততা, নীতিবোধ ইত্যাদিকে যেভাবে উপস্থাপিত করে তা এত বছর পরেও তাৎপর্যপূর্ণ। এই সিনেমায় কালার প্যালেট, আবহ, গান, সংলাপ এবং যেভাবে প্রতিটি দৃশ্যের সূক্ষ্ম নাটকীয় বুনন, তা সিনেমাটিকে সময় পেরিয়েও রেখে দেয়। ‘খোয়া খোয়া চাঁদ’, ‘ইয়ে শালি জিন্দেগি’, ‘তেরা কেয়া হোগা জনি’, ‘ইনকার’, ‘দাস দেভ’-এর মতো সিনেমা বানিয়েছেন তিনি। এক সময় হয়তো একঘেয়েমি রোগাক্রান্ত হয়েছে তাঁর সিনেমা, তবে পরিচালক হিসাবে এই বর্ষীয়ান মানুষটি সব সময়েই সময়ের চেয়ে এগিইয়ে থেকেছেন। তাঁর সিনেমার চরিত্ররা রক্ত-মাংসের মানুষ, দোষ-গুণ, ভুল্ভ্রান্তিতে ভরা, যাঁরা একইসঙ্গে অত্যন্ত অনৈতিক কোনোও কাজ করার পাশাপাশি হৃদয় আর শরীরের সবটুকু দিয়ে ভালবাসতে পারে। রাজনীতির আদর্শ আর কেরিয়ার, একগামীতা আর বহুগামীতা, কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা আর পরস্পরে আসক্ত দুই নারী-পুরুষের সম্পর্কের দোটানা, অপরাধ প্রবণতা, নারী স্বাধীনতা ও লিঙ্গ বৈষম্যের যে বিবিধ রূপ – মানুষ আর সমাজ এই দুইকেই সুধীর মিশ্রা যে লেন্স দিয়ে দেখে চলেছেন আজও তা দর্শকদের আরোও কিছু মাথার ভিতর বোধ কাজ করানোর মতো সিনেমা দেবে বলে ভাবতে ভালো লাগে। আর না হলে তাঁর প্রতিটি পুরনো সিনেমা-ই সঙ্গে রয়ে যাবে।