কলকাতা, ২৮ আগস্ট– যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আগেই হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে ‘রাষ্ট্রবাদ’ প্রতিষ্ঠা করার দাবি করেছিলেন তিনি। আর শুক্রবার যাদবপুরের এক সমাবেশ থেকে বাম-অতিবামদের নিশানা করে তার মন্তব্য, ‘হয় আমরা থাকব, নয় ওরা থাকবে।’
শুক্রবার যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ডে ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকলের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। সেই অনুষ্ঠানের পর মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে বাম-অতি বামদের নিশানা করে কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে তার চ্যালেঞ্জ, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন কেন, লিখুন ফ্রি পিওকে, লিখুন পাক অধিকৃত কাশ্মীর চাই।’
আগেই সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে যেসব ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ স্লোগান লেখা, তা অবিলম্বে মুছতে হবে। এবিভিপির অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, মাওবাদী নেতা কিষেণজির সমর্থনে লেখা স্লোগান, ‘আজাদি’ স্লোগান আর চলবে না। আর আজ হুঁশিয়ারির সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন, আমি সেই পুলিশ মন্ত্রী যিনি একসময় নন্দীগ্রাম থেকে বামেদের নিকেশ করেছিল। আমি সেই লোক যিনি জঙ্গলমহলে কিষেণজির ভাতা বন্ধ করেছিল। আমরা দিল্লিতে জেএনইউ, হায়দরাবাদের ওসমানিয়াকে উচিত শিক্ষা দিয়েছি, যাদবপুরেও যা করার করা হবে।’
যাদবপুরের গেরুয়া-বিরোধী পড়ুয়াদের ‘সবক’ শিখিয়ে সহস্র কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সোজাসুজি বাম, অতি বাম মনস্ক পড়ুয়াদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন। তার কথায়, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান দিচ্ছেন? ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখছেন? কেন? কোন আজাদির দাবি করছেন আপনারা। প্যালেস্টাইনের কথা বলার আগে লিখুন না – ফ্রি পিওকে। জেনে রাখুন, আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করবই।’
আজাদি স্লোগান ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর আরও প্রশ্ন, ‘আপনারা কীসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার আজাদি? ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছেন ক্ষুদিরাম বসু, নেতাজিরা। আবার কীসের আজাদি? জানি তো কে কোথায় কী করছে। ড্রোন ওড়াব। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি। নন্দীগ্রাম থেকে বামেদের সাফাই করেছি, জঙ্গলমহল থেকে কিষেনজিকে সাফাই করেছি। মহরমে অস্ত্র নিয়ে বেরনো বন্ধ করেছি। হয় এরা থাকবে, নাহয় আমরা থাকব।’