কলকাতা অফিস, ১৪ এপ্রিল – কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে সোমবার রাতেই ভোটকুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক)-এর অন্যতম কর্তা বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর মঙ্গলবার আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের স্ত্রী এবং ভাইকে তলব করল ইডি।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, আইপ্যাক মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হাওয়ালা লেনদেনের অভিযোগের তদন্তে নেমে ইডি প্রতীকের ভাই পুলকিত জৈন এবং স্ত্রী বার্বি জৈনকে ১৫ এপ্রিল অর্থাৎ, বুধবার তলব করেছে। দিল্লিতে সংস্থার সদর দফতরে যেতে বলা হয়েছে আইপ্যাক কর্তার স্ত্রী এবং ভাইকে। উল্লেখ্য, পুলকিতও আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত। ওই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ইডি-র সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর মামলায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বিনেশকে গ্রেফতারের পরে মঙ্গলবার ভোরে পটীয়ালা হাউস কোর্টে তাকে তোলা হয়। সওয়াল জবাবের পরে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (এএসজে) শেফালি বার্নালা ট্যান্ডন তাকে দশদিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ইডির দাবি, প্রাথমিক তদন্তেই প্রায় ৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিস পাওয়া গিয়েছে। আধিকারিকদের ধারণা, জেরা এগোলে এই অঙ্ক কয়েকশো কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইডি সূত্রে বলা হচ্ছে, এটি কেবল একটি সাধারণ আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং অপরাধের টাকাকে বৈধ করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র। আদালতে ইডি জানিয়েছে, আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ৩৩ শতাংশের অংশীদার। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে একটি মামলায় তিনি তদন্তাধীন রয়েছেন। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর থেকে এই মামলার সূত্রপাত।
ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্নীতির এই ‘টাকা’ আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে, ভিনেশকে জেরা করে সেটাই খুঁজে বের করা এখন প্রধান কাজ হবে। বিনেশের গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল। সোমবার রাতেই এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তাদের রাজ্যসভার ডেরেক ও’ব্রায়েন ‘অতি সত্বর এবং শর্তহীন ভাবে’ আইপ্যাক-কর্তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, ইডিকে কেবল রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে বিজেপি। পাশাপাশি ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ‘প্রত্যাহারের’ দাবি জানিয়েছেন ডেরেক।