আমাকে ধমকানোর চেষ্টা করবেন না, বিজেপিকে হুঁশিয়ারি তৃণমূলনেত্রীর

ব্যারাকপুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা, ২১ এপ্রিল – নাম না করে এবার শুভেন্দু অধিকারীকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি বিজেপিকেও তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিজেপি বাংলায় জবরদখলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তুললেন। এদিন পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুর, জগদ্দল এবং কলকাতার জোড়াসাঁকোয় সভা করেন মমতা। আর সেইসব সভা থেকেই বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন তিনি।

            পূর্ব মেদিনীপুরের সঙ্গে তৃণমূলনেত্রীর সম্পর্ক বরাবরই অত্যন্ত গভীর। কিন্তু সেই পূর্ব মেদিনীপুরেই রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটা বদলেছে। একদা এই জেলার সাংগঠনিক ক্ষেত্রে যে অধিকারী পরিবারের ওপর ভরসা করতেন মমতা, সেই পরিবারই এখন তার প্রধান বিরোধী। আর মঙ্গলবার হলদিয়ায় প্রথম নির্বাচনী সভা থেকে সেই অধিকারী পরিবারকেই তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা। নাম না করে শুভেন্দুকে গদ্দার বলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘হলদিয়া থেকে কত ট্রাক যায়, তার কাটমানি কে খায় আমি জানি। প্রতি মাসে কোম্পানিগুলো থেকে কে টাকা তোলে সব তথ্য আমার কাছে আছে। অর্ধেক নিজের পকেটে আর বাকিটা বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ মেদিনীপুরবাসীর কাছে তৃণমূলনেত্রীর আবেদন, ‘আপনারা নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য এই জেলাকে কোনও গদ্দারের হাতে বিক্রি হতে দেবেন না। একদল লোক বিজেপির হয়ে কাজ করছে, কাকে কাকে গ্রেফতার করতে হবে তার লিস্ট ধরিয়ে দিচ্ছে।’ অধিকারী পরিবারের ক্ষোভের নিশানায় বারবার থাকেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গ তুলেই মমতা বলেন, ‘ওর (অভিষেক) ওপর কীসের এত রাগ? আমি আজ বলে যাচ্ছি, আগামী দিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব অভিষেকই পাবে।’ 

            একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে নিজের হারের প্রসঙ্গ তুলে ফের ‘ইভিএম কারচুপি’ ও ‘লোডশেডিং’ তত্ত্ব উসকে দেন মমতা। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, ‘রাতের বেলায় জেতার পরেও লোডশেডিং করে ইভিএম মেশিন লুট করা হয়েছে। কাউন্টিং লুট হয়েছে। আমি চাইলে তখনই এর শেষ দেখে ছাড়তে পারতাম, কিন্তু ভবানীপুর থেকে নির্বাচিত হওয়ার জন্য তখন আর প্রেশার দিইনি।’ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে কমিশনের নির্দেশে যেভাবে প্রশাসনিক স্তরে রদবদল হচ্ছে তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। পুলিশের একাংশ বিজেপির হয়ে কাজ করছে এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘নিজের লোক খুঁজতে খুঁজতে মাথা ন্যাড়া হয়ে যাবে।’

            বিজেপি বাংলাকে জবরদখল করতে এসেছে বলে মন্তব্য করেন মমতা। তার কথায়, ‘পুরো দেশ বিক্রি করে দিয়েছে বিজেপি! এখন ধমক দিচ্ছে একে গ্রেফতার করো, ওকে গ্রেফতার করো। ২ লক্ষ সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে এসেছে। মিলিটারির সঙ্গে বৈঠক করছে। সেনার গাড়ি আনছে। যুদ্ধের গাড়ি নিয়ে এসেছে। সারা দেশ থেকে বিএসএফ, আইটিবিটি, সিআরপিএফ এনেছে। রেল থেকেও লোক এনেছে। এত বড় সাহস হেমন্ত সোরেনের বৈঠক ছিল, কপ্টার উড়তে দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ছিল বলে। গণতন্ত্রে ভোট তো উৎসব, আপনারা জবরদখলের চেষ্টা করছেন কেন? মানুষের উপর ছেড়ে দিন না!’ তৃণমূলনেত্রীর হুঙ্কার, ‘দখল করতে এসেছে! বাংলা দখল করতে এলে আমরা দিল্লি দখল করে নেব। হিম্মত থাকলে একা একা লড়ো। দেখি প্রধানমন্ত্রীর কত জোর।’ ইডি, সিবিআই এখন বিজেপির হাতের পুতুল বলে মন্তব্য করেন মমতা। তার মন্তব্য, ‘চোখে দেখবে না, কানে শুনবে না, এমন পুতুল পাওয়া যায়। এখন ইডি, সিবিআই বিজেপির হাতের সেই পুতুল। তবে আমি বলি, বা‌ংলা তোমায় দেব না। আমার সঙ্গে এসেছে লড়তে!’

            ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে দাঁড়িয়ে মমতার অভিযোগ, বিজেপির কারণেই আজ বাংলার অনেক জুটমিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বার বার কেন্দ্রকে বলি পাটের ব্যাগ নাও। নেয় না। পাটকল বন্ধ করে দেয়। আমরা খোলার চেষ্টা করি।’ ব্যারাকপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা দখল করতে বিজেপি ১০০টা ফ্লাইট, ২০০ হেলিকপ্টার, দু’লক্ষ বহিরাগত নিয়ে এসেছে।’ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ)  বৃদ্ধির ঘোষণা ভোটের আগে করা হলেও নির্বাচন কমিশন ফাইল আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, ‘বাজেটে বলেছিলাম চার শতাংশ ডিএ দেব। নির্বাচন কমিশন আটকে রেখেছে। আমি বলব, তুমি সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে দ্রুত ফাইল ছাড়ো। এটা তোমার কাছে যাওয়াই উচিত নয়। কারণ এটা ভোটের আগের ঘোষণা। ভোটের পরের ঘোষণা।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৫ শতাংশ ডিএ দিয়েছি। আর চার শতাংশ ডিএ যেটা ঘোষণা করেছি, সেটা এপ্রিলের বেতনের সঙ্গেই পাবেন। যা কথা দিই, তা রাখি।’

Sumit Chakraborty: