কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর- যাদবপুরে দাঁড়িয়ে ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় দাঁড়িয়ে গেরুয়ার অসম্মান কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন তিনি। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত গেরুয়া সম্মান যাত্রার নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই যাত্রার শেষ যাদবপুর দাঁড়িয়ে তিনি হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, যে বা যারা গেরুয়ার অসম্মান করবে তাদের শিকড় সহ উপড়ে ফেলা হবে।
এর আগে রাখীবন্ধনের দিনে যাদবপুরে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে কড়া হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। আর বুধবার তিনি বলেন, ‘আমি শপথ নিয়েছি এই যাদবপুরে যেখানে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স, যেখানে ঋষি অরবিন্দের ভূমি, এখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাংকে আর কিষাণজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের আর যারা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন তাদের শিকড়-সহ উপড়ে ফেলব আমি।’ বাম ও তৃণমূল সরকারকে পর্যুদস্ত করার উদাহরণ টেনে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন ২০১১-তে পণ করেছিলাম কমিউনিস্টকে সরাব। আমি পণ করেছিলাম মোদিজির নেতৃত্বে ছাব্বিশে জামাতি সরকারকে সরাব। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে। আপনারা সঙ্গে থাকুন স্বামী বিবেকানন্দের মাটি, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে।’
গোলপার্ক থেকে এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনিতে গোটা যাদবপুর যেন গেরুয়াময়। গেরুয়া ধ্বজা হাতে পথে হাঁটেন সাধু-সন্তরা। মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গিয়েছে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী তাপস রায়কে। উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও। শুভেন্দু অধিকারীর ঠিক পাশেই মিছিলে হাঁটেন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গেরুয়া নিয়ে কোনও অপশব্দ বলা বা লেখার আগে অন্তত পাঁচবার ভাববেন। গেরুয়ার অপমান এই বাংলা বরদাস্ত করবে না। আর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বসে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, ফ্রি প্যালেস্টাইন কিংবা কিষাণজীর লাল সেলাম জানানোর দেশবিরোধী গ্যাংকে কীভাবে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তা ভালভাবেই জানে।’