সই কান্ডের তদন্তে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুয়ারে সিআইডি

কলকাতা, ৯ জুন- সই জাল কান্ডের তদন্তে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন লাগোয়া পার্টি অফিসে পৌঁছে গেলেন সিআইডি তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির তদন্তকারীরা কালীঘাটে তৃণমূলের ওই কার্যালয়ে পৌঁছে যান। একইসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও পৌঁছোয় সিআইডি-র দল। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে অভিষেককে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল সিআইডি। কিন্তু এদিন সময় পেরিয়ে যাওয়ার কিছু সময় আগে তিনি জানিয়ে দেন, আজ তিনি হাজিরা দিতে পারছেন না।

            মঙ্গলবার দুপুরে ঘড়ির কাঁটায় ৩ টে বেজে ১৫ মিনিট নাগাদ ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট অর্থাৎ তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। মহিলা টিম ঘিরে ফেলেন কার্যালয়ের গেট। ঘটনাস্থলে পৌঁছন কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার বিশাল পুলিশ টিম ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিআইডির তরফে জানানো হয়, সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে চান তারা। সঙ্গে রয়েছে সার্চ ওয়ারেন্ট। এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে। আপাতত কার্যালয়ের দায়িত্বে দলের কোষাধ্যক্ষ তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তী। তিনি পেশায় আইনজীবী। এদিন দলনেত্রী ও অভিষেক না থাকায় সিআইডির মুখোমুখি হন শুভাশিষই। সাফ জানান, তিনি তল্লাশির অনুমতি দিতে পারবেন না।

            শুভাশিষ চক্রবর্তী বলেন, “আমি আইনজীবী, আপনারা আমাকে জানিয়ে আসেননি। যাদের চিঠির ভিত্তিতে এসেছেন তারা এই মুহূর্তে নেই। ওনারা ফিরুন। আপনি ২ দিন পর আসুন।” এরপরই সিআইডির তরফে বলা হয়, “আমরা অনুমতি চাইছি না, জানালাম। আপনি কাজে বাধা দিচ্ছেন, এর পরিণতি আপনার জানার কথা।” দু’পক্ষই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে। শুভাশিষ বলেন, “আমার যা বলার বললাম। আপনারা কী করবেন, আপনাদের ব্যাপার।” এরপর নিরাপত্তারক্ষীরাও চেষ্টা করেন সিআইডি অফিসারদের আটকানোর। গোটা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি হয়। পরবর্তীতে কার্যালয়ের বাইরে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন সিআইডি আধিকারিকরা। এরপরই কার্যালয় ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তৃণমূল কার্যালয়ে প্রবেশ করে সিআইডি টিম।

            সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে গত ৩০ মে প্রথম অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডি। ১ জুন তৃণমূল সাংসদকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিষেক হাজিরা না-দিয়ে সিআইডির থেকে ১৪ দিনের সময় চান। তবে সিআইডি অভিষেককে সময় দেয়নি। ১ জুন আবার কালীঘাটের বাড়ি গিয়ে সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ সংবলিত নোটিস দিয়ে আসে সিআইডি। কিন্তু সোমবারও হাজিরা দেননি অভিষেক। মঙ্গলবারে হাজিরা দেওয়ার নোটিস দিলেও আজ তিনি হাজিরা দেননি।

            কলকাতায় যখন এই তল্লাশি চালান সিআইডির তদন্তকারীরা সেই সময়েই দিল্লিতে জনপথে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।    

Sumit Chakraborty: