কলকাতা, ১৪ অক্টোবর– হলদিয়ায় একটি আধুনিক ফেনল প্ল্যান্টের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালে তৈরি ‘দেশের বৃহত্তম’ ফেনল এবং অ্যাসিটোন উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম প্রতীক!
তিনি জানান, এই ভাবে সারা পশ্চিমবঙ্গকে আত্মনির্ভর হতে হবে। রাজ্য বড্ড ভাতানির্ভর হয়ে পড়েছে। চতুর্থীর দিন সকাল ১১টায় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের ফেনল এবং অ্যাসিটোন উৎপাদন কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী দাশগুপ্ত, উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় থেকে একাধিক বিজেপি বিধায়ক এবং সাংসদ। ছিলেন এইচপিএলের কর্ণধার পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর নবনীত নারায়ণ। সহযোগী সংস্থা অ্যাডিপারমার বিনিয়োগে তৈরি সংশ্লিষ্ট প্ল্যান্টে বছরে ৩.৪৫ লক্ষ টন ফেনল এবং ২.১৫ লক্ষ টন অ্যাসিটোন উৎপাদন হবে সরকারি সূত্রে দাবি।
আত্মনির্ভর ভারতের মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, এতদিন যে পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হত, এবার এই নতুন প্ল্যান্টের হাত ধরে সেই নির্ভরতা পুরোপুরি কাটবে। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বর্ণনা করেন কী ভাবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাফল্য পেয়েছে সংস্থা। পূর্ণেন্দুবাবু জানান, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তাকে বলেছিলেন, ‘বাঙালিরা যদি বাঙালিদের না দেখে তবে কে দেখবে।’ এমনকী নিজের মাও তাকে বাংলার জন্য কিছু করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। সেই প্রেরণা নিয়েই তিনি কাজ করছেন।
অনুষ্ঠান থেকে অতীতের প্রসঙ্গ টেনে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আগের ৩৪ বছরের বাম জমানার মতো কারখানার গেটে ধর্মঘট ডেকে তালা ঝোলানোর সংস্কৃতি বাংলায় আর ফিরবে না। একই সঙ্গে বিগত পনেরো বছরের তোলাবাজির সংস্কৃতিকেও রাজ্য সরকার কোনও ভাবেই প্রশ্রয় দেবে না।