কলকাতা অফিস, ২৯ আগস্ট- শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরে নানা পদক্ষেপ করেছিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এবার তারাপীঠের আসন্ন বাৎসরিক উৎসব ‘কৌশিকী অমাবস্যা’য় বিশেষ প্রশাসনিক উদ্যোগের আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। তারাপীঠে শনিবার পুজো দেওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকারের একটাই নীতি ছিল— ‘নো নো নো’। আর বর্তমান সরকারের একমাত্র মন্ত্র হল— ‘হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ’!’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার মা তারার আশীর্বাদেই গঠিত হয়েছে, তাই ভক্তদের আস্থা ও পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় রাজ্য সরকারের তরফে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তারা মায়ের পুজো দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রাবণী মেলা ও রথযাত্রায় আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মেনে সরকারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ বার তারাপীঠের সবচেয়ে বড় বাৎসরিক উৎসব কৌশিকী অমাবস্যা আসছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং বিদেশ থেকেও বহু মানুষ এখানে আসবেন। এই আস্থার মহোৎসবের জন্য আমরা সুন্দর প্রস্তুতি নিচ্ছি। মা তারাকে কেন্দ্র করে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, সব নেওয়া হবে।’
বীরভূমের আত্মপরিচয় তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মা তারার বীরভূম, বাউলের বীরভূম, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বীরভূম— এই জেলাকে তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বজায় রেখেই আমরা নতুন ভাবে গড়ে তুলব। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ নিজের অতীতের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের স্মৃতিকথন তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর থেকে কালীঘাট-সহ নানা তীর্থক্ষেত্র দর্শন করেছি। জলপাইগুড়ির জলপেশ মন্দিরে শ্রাবণী সোমবারে শিবের মাথায় জল ঢেলেছি, তারকেশ্বরে ধর্মসম্মেলনে অংশ নিয়েছি। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং ইসকনে গো-সেবা করতেও গিয়েছি। একমাত্র তারাপীঠ দর্শন ও মাকে প্রণাম জানানোটাই বাকি ছিল, আজ সেটাও সম্পূর্ণ হল। সব সুন্দর হবে।’