বাংলায় লগ্নি টানতে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, নিশানা বাম ও তৃণমূলকে

কলকাতা অফিস, ৫ নভেম্বর- বদলের বাংলায় এবার নতুন শিল্পনীতি রাজ্য সরকারের। বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করে একের পর এক চমক দিলেন। ঘোষণা করলেন, জমি পেতে শিল্পপতিদের কোনো অসুবিধা হবে না। সরকার জমি কিনে ল্যান্ডব্যাঙ্ক তৈরি করবে। ইপিএফের ক্ষেত্রেও বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। এমএসএমইতে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের ক্ষেত্রে সংস্থার ভাগের ইপিএফের পুরোটাই দেবে সরকার।  বিদ্যুৎ থেকে জমির স্ট্যাম্প ডিউটি, সবেতেই পাশে থাকবে সরকার। যা নিঃসন্দেহে লগ্নিকারীদের জন্য স্বস্তির খবর।

            একদিকে শিল্পনীতি যেমন ঘোষণা করলেন, তেমনই অন্যদিকে বাম ও তৃণমূলকে একযোগে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতের বাম জমানার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সিপিএম ও কমিউনিস্টদের আমলের আগ্রাসী ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন এবং ধ্বংসাত্মক ধর্মঘট সংস্কৃতির জেরে চিত্তরঞ্জন থেকে হলদিয়া পর্যন্ত পাট শিল্প, চা শিল্প এবং অন্যান্য উদীয়মান শিল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই বিনিয়োগবিরোধী নীতি ক্রমবর্ধমান পশ্চিমবঙ্গকে পিছিয়ে দিয়েছিল। অতীতের বাম সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ নীতির ত্রুটি বোঝাতে গিয়ে ২০০৭ সালের ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন যে, হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জমি অধিগ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি করার কোনও আইনি এক্তিয়ার নেই। ১৮৯৪ সালের ব্রিটিশ ল্যান্ড অ্যাক্ট বা ভূমি আইন অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরই কেবল ওই ক্ষমতার অধিকারী, কোনও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নয়। বর্তমান অর্থনীতির করুণ চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারের মাথার ওপর চেপে রয়েছে ৮ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল ঋণভার। কর্মসংস্থানের অভাবে আজ রাজ্যের ২ কোটিরও বেশি শিক্ষিত বেকার যুবক রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং পরিবার প্রতিপালনের জন্য প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

            পরবর্তীকালে তৃণমূলের সরকারের ভুল নীতির কারণে বাংলায় শিল্পে বিনিয়োগ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১১ সালে পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় এসে ঘোষণা করেছিল যে সরকার শিল্পের জন্য সরাসরি জমি অধিগ্রহণ করবে না। উদ্যোক্তাদের নিজ দায়িত্বে জমি কিনে নিতে হবে। একে ‘একজন ভাল প্রশাসকের সঠিক পথ নয়’ বলে সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, সঠিক ভূমি নীতির অভাবেই বিগত সরকারের আমলেও রাজ্যের শিল্প নীতি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এর বিপরীতে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, বিজেপি শাসিত সরকার ইতিমধ্যেই ২০১৩ সালের সংশোধিত ভূমি ক্রয় আইন গ্রহণ করেছে এবং শিল্পায়নের গতি বাড়াতে ‘ভূমি পুলিং’ ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

           

Sumit Chakraborty: