আশি হাজার সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২৯৬ কোটি বরাদ্দ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা, ২৯ জুলাই- বিগত তিন বছর ধরে সরকারি আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল সরকারি বিদ্যালয়গুলি। এবার বাংলায় ডবল ইঞ্জিনের সরকার আসার পরেই সরকারি ও আধা সরকারি বিদ্যালয়গুলির জন্য অর্থসাহায্য ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সভাঘরে আজ এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মোট ৮০ হাজার ৩৭৫ স্কুলে ২৯৬ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ট ফান্ডে অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে সরকারি ও আধা সরকারি স্কুলগুলিকে।

            মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত সরকারের আমলে রাজ্যের স্কুলে শিক্ষার মান কমেছে। নতুন সরকারের আমলে রাজ্যে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে শিক্ষাব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী। আমরা উচ্চশিক্ষা বিভাগ আলাদা করেছি। ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্যে শিক্ষার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের স্কুল মুখী করা এবং প্রতিযোগিতার যুগে বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার সমতুল্য করতে না পরালে অভিভাবকরা বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকবেন। তাই সরকারি স্কুলগুলিকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।’

            নতুন সরকারের আমলে স্নাতকে ভর্তির হার বৃদ্ধির প্রসঙ্গে  পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরাজ্যে শিক্ষার বাজারিকরণ বা পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার মতো সুপ্ত চক্রান্ত হয়েছে গত সরকারের আমলে। জয়েন্ট এন্ট্রান্সের পর বহু ছাত্রছাত্রীরা বাইরে চলে যায়। মেধার ভিত্তিতে দ্রুত ভর্তি ব্যবস্থা চালু করায় উচ্চ মাধ্যমিকের পরে ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। মাধ্যমিকের পরেও ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। বিজেপি সরকারের আমলে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষিত করতে পারলে কর্ম সংস্থানও বাড়বে।’ আগামীদিনে জাতীয় শিক্ষানীতি মেনেই বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির আধুনিকীকরণে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পোর্টালে সরকারি স্কুলগুলিতে অডিও-ভিসুয়াল শিক্ষা। দীক্ষা প্ল্যাটফর্মে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ৩ লক্ষ শিক্ষক দীক্ষা পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছেন ইতিমধ্যেই। ১ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্কুলে অটল ল্যাবরেটরি, ৮০০ স্কুলকে ‘পিএমশ্রী’-র আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকার স্কুলগুলিতেও সোলার প্যানেল, ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ, গ্যাসে মিড ডে মিল রান্না, শৌচালয় নির্মাণ, পানীয় জল, সরকারি স্কুলে ফ্যান দেওয়ার কর্মসূচি গুলি সম্পন্ন করবে সরকার।’ নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শীঘ্রই রাজ্যে আসবেন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার হাল ফেরাতে একাধিক আলোচনা হবে। সেই মতো ধাপে ধাপে উন্নয়নের পথে এগোবে সরকার।

Sumit Chakraborty: