তিন নির্বাচনী সভায় মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলের পথে হাঁটছে মথা

পেচারধলের লেডাই দেওয়ান বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে এভাবেই ভিপ্রা মথাকে সরাসরি আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।

কাঞ্চনপুর, কুমারঘাট ও ধর্মনগর, ৬ এপ্রিল: এডিসি ভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যব্যাপী সন্ত্রাস চালাচ্ছে তিপ্রা মথা। যেমন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ভোটে জয়ী হতে হামলা, স্বজ্জতি, সন্ত্রাস করছে। সম্প্রতি তিগ্রা মথা রাজ্যের ন্যূনতম চল্লিশটি স্থানে হামলা, হুজ্জতি, অগ্নিসংযোগের মতো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংগঠিত করেছে। রাজ্যে হামলা-হজ্জতি ও সন্ত্রাসকারী তিপ্রা মথাকে ছাড়া হবে না। সব হিসাব হবে। অভিযুক্তদের বিচার হবে। শান্তি পাবে। তিগ্রা মথার পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়াতে শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসের পথে হেঁটে এডিসির ক্ষমতা দখলের চেষ্টায় নেমেছে। যা কখনও বাস্তবায়িত হবে না। সোমবার দশদা কাঞ্চনপুর আসনের বিজেপি প্রার্থী শৈলেন্দ্র নাথের সমর্থনে দশদা বাজারে আয়োজিত বিজয় সংকল্প সভা, মাছমারা আসনের বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে পেচারধলের লেডাই দেওয়ান বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে এভাবেই ভিপ্রা মথাকে সরাসরি আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে এ রাজ্যেও তিগ্রা মথা একই পথ অনুসরণ করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল মানুষের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। কিন্তু সেই অধিকারকে খর্ব করার উদ্দেশে তিপ্তা মথা পরিকল্পিতভাবে ভীতি সঞ্চার করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েকদিনে রাজ্যের প্রায় চল্লিশটি স্থানে তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও হজ্জতির অভিযোগ উঠেছে। রবিবারও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাসের রাজনীতি কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে তৃণমুল কংগ্রেসের সন্ত্রাসকে উপেক্ষা করেই মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে মত দেবে। ত্রিপুরাতেও জনগণ একই ভাবে সন্ত্রাস ও উতি প্রদর্শনের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এডিসি নির্বাচনে বিজেপি ২৮টি আসনেই জয়লাভ করবে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মণ্ডল সভাপতি বীরেন্দ্র কর, মণ্ডল নেতা সৌমেন আচার্য, সজল বণিক, বিধায়ক যাদব সাল নাহ, অরুণ নাথ, তাপসেন্দু নাথ প্রমুখ।


এদিকে পেচারখলে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, তিতা মথা শুধু থাংড়া থাড়া বলে। কিন্তু বাস্তবে প্রকৃত থাংচা হল আমরা। আমরা সকলেই নিয়ে চলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে স্লোগান সবকা সাত সবকা বিকাশ সবকা বিশ্বাস সেই রাস্তাতেই রাজ্যের উন্নয়ন চলছে তিনি বলেন, রাজ্যের জনজাতিদের উন্নয়ন শুরু হয়েছে বিজেপি সরকারের আমলে। তিনি বলেন, আগরতলা এয়ারপোর্টকে মহারাজা বীর বিক্রম নামে নামকরণ করা হয়। তাছাড়াও এই সরকারের আমলে জনজাতিদের থেকে আটজনকে পাত্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে সমাজপতিদের সাম্মানিক ছিল ২০০০ টাকা। কিন্তু তিনি মুখ্যমন্ত্রী হবার পর সমাজপতিদের সাম্মানিক করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা করে। তাছাড়াও জনজাতিদের শিক্ষা ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে এই সরকারের আমলে তিনি বলেন, অগে এই রাজ্যে মাত্র চারটি একলব্য স্কুল ছিল। এই সরকার আসার পর বারোটি একলব্য স্কুল আরো করা হয়েছে। আরও ছয়টি একলব্য স্কুলের জন্য নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। তাছাড়া আরও পনেরোটি স্কুল করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।


এদিকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফটিকরায় বিধানসভা এলাকার জুরিছড়াতেও একটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। উক্ত জনসভায় উপস্থিত ছিলেন পালিয়াছড়া বিধানসভার বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস, মন্ত্রী শান্তনা চাকমা ও মন্ত্রী সুধাংশু দাস।

Sujoy Guha: