কলকাতা, ৮ জুলাই– কালীঘাট পন্থী তৃণমূলের মিছিলকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হলো কলকাতা জুড়ে। বালিগঞ্জে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক অনুগামীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত না বিজেপিকে দায়ী করলেন, তার চেয়ে বেশি দোষ চাপালেন পুলিশের ঘাড়ে। তার অভিযোগ, বিজেপির দলদাস হয়ে গিয়েছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশমতো নিজেদের কর্তব্য পালন করতে পারেনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, আদালতের অনুমতিতে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এমন ঘটনা ঘটার পরে এবার ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার মমতাদের মিছিল বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে হাজরা মোড়ে গিয়ে শেষ করার কথা ছিল। মিছিলের সময়ও বেঁধে দিয়েছিল হাই কোর্ট। দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। মিছিলে ১,০০০ জনের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
কালীঘাট তৃণমূলের এই মিছিলকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরে রাস্তায় নামেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যাপক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে মেজাজ হারান তিনি। এক ব্যক্তিকে গালে কষিয়ে চড় মারেন তৃণমূলনেত্রী। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি তৃণমূলেরই কর্মী। এছাড়াও বিশৃঙ্খলা থামাতে দলের বেশ কয়েকজন কর্মীকে পিটে চড় মারতে দেখা যায় মমতাকে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে দুপুরে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে এই মিছিল শুরু হয়। কিন্তু মিছিল কিছুটা এগোতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলকে কেন্দ্র করে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এমনকী রাস্তার একপাশ দিয়ে ভেসে আসে ‘মাছ চোর’ গান। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তৃণমূলের অভিযোগ, দলের কর্মীদের ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। পরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হন মমতা। সেই সময় বাড়ির বাইরে ভিড় জমে গিয়েছিল। সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছলে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন।
মমতা বলেন, ‘হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে মিছিল করেছে ছাত্র-যুবরা। সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়ির সামনে ঘুরে বেড়িয়েছে। চিৎকার করেছে। আমাকে ভয় দেখিয়েছে। ভালো করে সরকার চালাও।’ মমতা আরও বলেন, ‘আমি বিজেপিকে দোষ দেব না। দোষ পুলিশের। আমরা আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মিছিল করছি। কিন্তু পুলিশ তাদের ভূমিকা পালন করেনি।’ কটাক্ষের সুরে মমতা বলেন, ‘আইসি তো এখন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। এসপি জেলা সভাপতি। টোটাল ল-লেস সিচুয়েশন চলছে। পুলিশ যদি আইনশৃঙ্খলা সামলাতে না পারে… ওরা আদালতের নির্দেশের অবমাননা করেছে। আমরা আবার হাই কোর্টে যাব।’ বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘যারা রামের টাকা চুরি করে খায়, প্রণামীবাক্সের টাকা চুরি করে খায়, তারা রামের নামে স্লোগান দিচ্ছে! লজ্জা পাওয়া উচিত। রাম কা নাম বদনাম না করো। বাট আই অ্যাম নট ব্লেমিং দ্য বিজেপি। আই অ্যাম ব্লেমিং দ্য পুলিশ।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে গেছেন মমতা। এই সমস্ত আচরণ দুর্ভাগ্যজনক হলেও তিনি এখন ঠিকই করছেন। তার মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তিনি এখনও মেনে নিতে পারছেন না, বাংলার মানুষ তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।’