ওয়াশিংটন, ২১ এপ্রিল : বুধবারই শেষ হচ্ছে আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা। তারপর কী হবে তা নিয়েই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সদর্থক বার্তা পাওয়া গেল। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রাক্তন প্রধান ডেভিড এইচ পেট্রিয়াস দাবি করলেন, আশা করা হচ্ছে দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়বে। দুই দেশই পারস্পরিক আলোচনায় আগ্রহী বলেও দাবি পেট্রিয়াসের।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রথম দফায় একটি বৈঠক হয়েছে। ইসলামাবাদের সেই ম্যারাথন বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। আমেরিকার বেশ কয়েকটি প্রস্তাবে ইরান সহমত হয়নি বলে বৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল বলে দাবি করা হয় আমেরিকার তরফে। যদিও ইরান তখন পাল্টা দাবি করে, আমেরিকার সদিচ্ছার অভাবেই বৈঠক শেষ মুহূর্তে অমীমাংসিত থেকে গিয়েছে। তার পর থেকেই আবার দু’দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। আমেরিকাও পাল্টা হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করার পথে হেঁটেছে। এখনও সেই অবরোধ চলছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় ফের দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয়বার বৈঠকের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফার এই বৈঠক ফলপ্রসূ হবে বলেই আশা করছে পাকিস্তান। তার মধ্যেই ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে, বৈঠকে তারা বসতে রাজি নয়। সোমবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইলি বাকাই জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে তারা বসবেন কি না, তা এখনও স্থির হয়নি। ফলে বৈঠক কবে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৈঠকের অনিশ্চয়তার আবহে মার্কিন সেন্টকমের প্রাক্তন প্রধান সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের কাছে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করলেন, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়তে পারে। দু’দেশই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে আমেরিকার এখন দু’টি লক্ষ্য। এক, হরমুজ় থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আলগা করা। দুই, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানে হাত থেকে নেওয়া। তবে দু’টিই যে তাদের পক্ষে আদায় করা সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। কারণ, ইরানকে দেওয়া আমেরিকার ১০ দফা শর্তের প্রধান ছিল, এই দু’টিই। আর প্রথম দফার বৈঠক আটকে যায়, এই দু’টি শর্তেই। দ্বিতীয় দফার বৈঠক হলে এই দু’টি বিষয়ই উঠে আসবে। ফলে বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়েও সংশয় বাড়ছে।