বারুইপুর কান্ডে এনকাউন্টার, পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে খতম অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস

কলকাতা, ৮ জুলাই- বারুইপুরে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় এবার এনকাউন্টার পুলিশের। ঘটনায় ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হল পুলিশের গুলিতে। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথম তাকেই গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে প্রভাসকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অপরাধস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই তিনি পুলিশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। আর তখনই তাকে গুলি চালায় পুলিশ।

            বারুইপুরের ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবারের লোকেদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও যান সেখানে। সাংবাদিকদের সামনে তখনই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না, সকালে জমা নেব, বিকেলে খরচ করব।’ বারুইপুর কাণ্ডে কার্যত তাই-ই হল। গ্রেপ্তারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যোগীরাজ্যের ধাঁচে এনকাউন্টারে খতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল।

            এনকাউন্টারের পরেই প্রশ্ন ওঠে, মঙ্গলবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল বারুইপুরের সূর্যপুরে? কেন গুলি চালানোর প্রয়োজন পড়ল ? জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ধৃতদের দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পরে রাত পৌনে ১টা নাগাদ প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারী আধিকারিক। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েক জন পুলিশ অফিসারও। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার উদ্দেশ্যেই প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আচমকা সিটের সদস্য রনি সরকারের কোমরে থাকা পিস্তল কেড়ে নেয় প্রভাস। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক রাউন্ড গুলি চালায় সে। বিপদ বুঝে এরপরই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে থাকা অর্ঘ্য মণ্ডল। ওই অবস্থায় প্রভাসকে উদ্ধার করে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

            ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারকে দেওয়া সুবিচারের আশ্বাস বাস্তব রূপ নিতে শুরু করায় অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে শোকগ্রস্ত পরিবার। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও কড়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা। মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের ‘দাদা’ সম্বোধন করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার ও পুলিশের ভূমিকায় তিনি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। নিহত কিশোরীর বাবা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা। তিনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে দোষীদের একজনকেও রেয়াত করা হবে না। দাদার ওপর আমার পূর্ণ ভরসা রয়েছে এবং ওঁর এই পদক্ষেপে আমি অত্যন্ত খুশি। পুলিশও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভাল কাজ করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার মেয়ে নিশ্চিতভাবেই বিচার পাবে এবং দাদা তার কথা রাখবেন।’

             বারুইপুর এনকাউন্টারের ঘটনায় বার্তা দিয়েছেন অভয়ায় মা, পানিহাটির বর্তমান বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘এখানে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে আমরা যেমন এখনও বিচার পাইনি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমি মনে করি, পুলিশ ভালো করেছে। একজন ধর্ষক শেষ হয়েছে। এভাবে যদি পদক্ষেপ করা হয়, তাহলে হয়তো বাচ্চা মেয়েদের বাঁচানো যাবে আগামী দিনে।’       

Sumit Chakraborty: