কলকাতা, ২৭ এপ্রিল – নির্বাচনী প্রচারে শেষলগ্নে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলি জেলার গোঘাট। আক্রান্ত হলেন তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগ। এদিনই গোঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পদযাত্রা ছিল। তার আগেই এমন ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকাজুড়ে। বর্মা গ্রামে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের সমর্থনে আয়োজিত একটি প্রচার মিছিলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক। তখনই মিতালীর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
বিজেপির দাবি, এদিন দুপুরে গোঘাটের বর্মা গ্রামে দলীয় প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের সমর্থনে একটি নির্বাচনী র্যালি বের করা হয়েছিল। অভিযোগ, মিছিলটি যখন গ্রামের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে মিছিলে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বিজেপি প্রার্থীর কনভয়ে থাকা একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে এবং কর্মীদের বেধড়ক মারধর করে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। শাসক দলের দাবি, গোঘাটের বিকদাস এলাকায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আরামবাগের সাংসদ মিতালী বাগের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। সাংসদ তখন আরামবাগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি রোডশো-তে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা সাংসদের গাড়ি ঘিরে ধরে ভাঙচুর চালায় এবং ৪ জন তৃণমূল কর্মীকে মারধর করে । পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি সাংসদের। আহত অবস্থায় মিতালীকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। জখম সাংসদকে দেখতে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল সাংসদ প্রায় কাঁদো কাঁদো স্বরে বলেন, ‘দেখুন কী ভাবে বিজেপির দুষ্কৃতীরা গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এখনও ভোট শুরু হয়নি। দেখুন এক জন মহিলার কী ভাবে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।’ যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। আরামবাগের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ পাল্টা দাবি করেছেন, ‘প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের সমর্থনে এখানে প্রচার চলছিল। সেই সময় গোঘাটের তৃণমূল নেতা সঞ্জয় খানের নেতৃত্বে কিছু দুষ্কৃতী লাঠি, ইট, রড, বন্দুক নিয়ে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। হাসপাতালে ২০ জন ভর্তি। মোট ৫০ জন আহত। বিজেপির প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনাটি চাপা দেওয়ার জন্য মিতালি বাগ নাটক করছেন।’