কলকাতা অফিস, ৩ নভেম্বর- মঙ্গলবার শিলিগুড়ির সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন শুভেন্দু। আর সেখানেই অভিষেকের নাম না করে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘ভাইপোর কী হয় সময় হলে দেখতে পাবেন।’
বিজেপি সরকারে আসার পর উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। উত্তরকন্যায় কাজকর্ম দেখা, উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি ঠিক করার উদ্দেশ্যে প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গ যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনও শিলিগুড়ি গিয়ে উত্তরকন্যায় বৈঠক করেন তিনি। দুপুরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মিছিল কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সভামঞ্চ থেকে ‘ইন্ডি’ জোট, সিপিএম, মমতা-অভিষেককে আক্রমণ করেন।
এদিনের সভা থেকে কংগ্রেস, তৃণমূল সমস্ত বিরোধী দলকে একসূত্রে বেঁধে বংশবাদী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে ‘ফোর-জি’, ‘থ্রি-জি’ এবং ‘টু-জি’-র অভিনব রাজনৈতিক অর্থ ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেশপ্রেম ও একক নেতৃত্বকে তুলে ধরে বিরোধীদের তুলোধনা করেন তিনি। জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভ্রষ্টচারী কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি সব ফোর-জি, থ্রি-জি এবং টু-জি পার্টি। কিন্তু আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদীর কোনও ‘জি’ নেই।’’ এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘ফোর-জি মানে হল চাচা নেহেরু, তার বেটি ইন্দিরা, বেটা রাজীব এবং তার বেটা রাহুল। থ্রি-জি হল দাদু শেখ আবদুল্লাহ, বেটা ফারুক আবদুল্লাহ এবং নাতি ওমর আবদুল্লাহ। আর টু-জির তো ছড়াছড়ি – যেমন পিসি এবং ভাইপো, কিংবা মুফতি মহম্মদ সৈয়দ ও তাঁর বেটি মেহবুবা মুফতি।’ এর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত কিচ্ছু নেই। তার আগে দেশ, পিছনেও দেশ। মোদীজি না থাকলে সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর হত না এবং রামলালার জন্মস্থান অযোধ্যায় তাঁর মন্দির, প্রাণপ্রতিষ্ঠাও সম্ভব হত না।’
বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ এবং রামলীলা ময়দানের জমায়েতকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, পরাজিত সমস্ত শক্তি আজ দিল্লিতে গিয়ে জমায়েত হয়েছে। এরা দেশে বাংলাদেশের মতো জামাতি, মৌলবাদী, দিমাগী নকশাল, মাওবাদী ও জঙ্গি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় এবং ‘ভারত কি বরবাদি’ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান দেওয়া টুকরো টুকরো গ্যাংয়ের দোসর হয়েছে। মমতা-অভিষেকের নাম না করে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাদের নাম নিশানা মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, সেই পিসি-ভাইপো এখন দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যে ও দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। দিমাগী নকশাল, জেহাদি, জঙ্গি, আরশোলা, ছারপোকা, মেলেরিয়া-ডেঙ্গু বহনকারী মশার মতো এদের ঠান্ডা করতে হবে।’