নয়াদিল্লি: রেললাইনের ধারে হাতির পাল, সে দিকে এগিয়ে আসছে ট্রেন। এই অবস্থায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই–ই কি শেষ ভরসা? উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল এ বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রযুক্তি–নির্ভর নজরদারি, সতর্কবার্তা এবং বন দফতরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২৫৭টি হাতিকে ট্রেনের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করা গিয়েছে বলে জানিয়ে তেমনই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানাচ্ছেন, বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রেলপথে এআই–প্রযুক্তি ক্রমশ ফলপ্রসূ হচ্ছে। এ বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর— এই ন’মাসে আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে ১০৬টি, রঙ্গিয়ায় ১৪টি, লামডিংয়ে ১২২টি এবং তিনসুকিয়ায় ১৫টি হাতিকে বিপদ থেকে রক্ষা করা গিয়েছে— এমনটাই উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের দাবি। তাদের বক্তব্য, কোনও একটি জায়গায় বিভিন্ন সময়ে ট্রেন চলার সময়ে ট্র্যাকের খুব কাছে চলে আসা কতগুলি হাতির পালকে এই প্রযুক্তির প্রয়োগে দূরে সরানো গিয়েছে, তার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছে রক্ষা পাওয়া হাতির সংখ্যা।
হাতির গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করার জন্য চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর লক্ষ্য, হাতি রেললাইনের কাছে পৌঁছনোর আগেই ট্রেনের চালক ও রেলকর্মীদের সতর্ক করা। এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ‘ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম’ (আইডিএস)। এর সঙ্গে যুক্ত ‘ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাকাউস্টিক সিস্টেম’ (ডিএএস) প্রযুক্তি। রেলপথের আশপাশে হাতির চলাচলে তৈরি হওয়া শব্দ ও কম্পন শনাক্ত করে ডিএএস।
সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে আইডিএস দ্রুত হাতির উপস্থিতি চিহ্নিত করতে পারে এবং রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা পাঠায়। সেই মতো ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ বা ট্রেন চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ করার সুযোগ পান রেলকর্মীরা।
রেললাইনে হাতি উঠে পড়ার আগেই বিপদ এড়ানোর চেষ্টা চলছে এই প্রযুক্তিতে। এর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে ‘প্ল্যান বি’ প্রযুক্তি। এই ‘বি’ কিন্তু অক্ষর নয়। এই ‘বি’ হলো মৌমাছি। মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ তৈরি করে হাতিকে রেললাইন থেকে দূরে রাখাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। যে হাতিরা দলবদ্ধ অবস্থায় থাকলে বাঘকেও ভয় পায় না, সেই হাতির দল মৌমাছির হুলে কাবু হয়ে পড়ে।
তাই, কোথাও মৌমাছির গুঞ্জন শোনা গেলে হাতিরা দ্রুত সেই চত্বর ছেড়ে চলে যায়। সে কথা মাথায় রেখেই রেলট্র্যাক থেকে হাতিদের দূরে রাখতে রেলের এই পরিকল্পনা। হাতিদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আন্ডারপাসও তৈরি করছে রেল। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে হাতিদের বার বার রেললাইন পার হওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রযুক্তি–নির্ভর নজরদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে রেলের।