ফের ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলে, এবার রাজ্য সভাপতির পদে ইস্তফা চন্দ্রিমার

কলকাতা, ৪ জুলাই- এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূল ভবনের দলীয় কার্যালয় দখল নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের দড়ি টানাটানির আবহেই কালীঘাট পন্থী তৃণমূলের সব পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। জানালেন, কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ তার নেই। কিন্তু তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেই তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়ছেন। সরাসরি জানালেন, তৃণমূল ভবনের দখল ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় তিনি মর্মাহত। পাশাপাশি বিষ্ফোরক অভিযোগ তুলে চন্দ্রিমা জানিয়েছেন, মমতার মন্ত্রীসভায় তিনি অর্থ দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী থাকলেও বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে তার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হতো না।

            এদিন রাজ্য সভাপতির পদে ইস্তফা দেওয়ার পরে হঠাৎ করেই বিধানসভায় পৌঁছে যান চন্দ্রিমা। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে বসেছিলেন তিনি। তাতেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কী এবার বিদ্রোহী তৃণমূলের পথে পা বাড়ালেন চন্দ্রিমা। তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করতেই চন্দ্রিমার উত্তর, ‘আমি বিধানসভায় কিছু কাজে এসেছিলাম। এখন বিধানসভার ভেতরে এসে কোথায় বসব? আমি তো আর শাসকদলের ঘরে যেতে পারব না। বিরোধী দলের ঘরেই আমাকে বসতে হবে।’ দলীয় পদে ইস্তফা দেওয়ার পরে চন্দ্রিমা জানিয়েছেন,  শুক্রবার দলীয় কার্যালয়ে ঋতব্রতরা যাওয়ার পরে তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে বলেছেন, ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে। আর মমতার সেই কথাতেই মর্মাহত হন চন্দ্রিমা।  চন্দ্রিমার দাবি, এ ভাবে আসলে তার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেই ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। মমতা-পন্থী তৃণমূলে তিনি থাকবেন কি না, তা নিয়ে কিছু স্পষ্ট করতে চাননি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী।

            চন্দ্রিমার এই মন্তব্যের পাল্টা তাকে আক্রমণ করেন কালীঘাট পন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন অর্থ-সহ কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ দফতরে ছিলেন তিনি! তখন মনে হয়নি, আজ একটা কথায় খারাপ লাগছে? তখন অতগুলি দফতর পাওয়ার আনন্দে কি সব সর্বাঙ্গসুন্দর ছিল?’ যে অভিযোগ চন্দ্রিমা তুলেছেন তা নিয়ে আরেক মমতা পন্থী তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক সময়েই বকাবকি করে কথা বলেন। আমি ওর থেকে বারো বছরের বড়, তাও কত কথা আমাকে বলেছেন। কিন্তু মমতাকে ছেড়ে কখনও যাইনি।’

শনিবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে চন্দ্রিমা লিখেছেন, ‘৩ জুন কালীঘাটের বৈঠকে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর যে পদে আমাকে বসানো হয়েছিল, তা থেকে ইস্তফা দিলাম। বর্তমানে আর যে যে পদে আমি রয়েছি, তা থেকেও ইস্তফা দিলাম।’

            মমতা তাকে ফোন করলে তিনি কী ফিরে যাবেন? প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রিমা বলেন, ‘ফেরার কিছু বিষয় নয়। বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে থাকে, তখন সেই জায়গায় ফেরা যায় না।’ তিনি কেন এমন কথা বললেন তার ব্যাখ্যা দিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, ‘শুক্রবারের ঘটনা সকলেরই জানা। মেট্রোপলিটন ভবনে বেশ কয়েক জন বিধায়ক গিয়েছিলেন। আমি যত ক্ষণ ছিলাম ওই বিধায়কেরা আমার সঙ্গে কথা বলেননি। আমি বাড়ি চলে আসার পর মমতাদি ফোন করতে বলেন। ফোন করলে বলেন, তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে?’

            আবার মমতার আমলের বাজেট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার কথায়, ‘আমার সঙ্গে আলোচনা করে কখনওই বাজেট তৈরি হয়নি। জনতা যখন জেনেছে, আমি তার কয়েক ঘণ্টা আগে জেনেছি। আমি আনুগত্য দেখিয়েছিলাম। সেটাই এখন প্রশ্নের মুখে, তাই আমি পদত্যাগ করেছি।’ এরপরেই বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে একের পর এক প্রশ্নবাণ আসতে থাকে চন্দ্রিমার দিকে। বিতর্কে না জড়িয়ে তিনি বলেন, ‘সব কথা তো বলতে পারব না। গোপনীয়তা বজায় রাখার একটা শপথ নিয়েছিলাম। সেটা তো খানিকটা বজায় রাখতে হবে।’

Sumit Chakraborty: