ভোলবদল অনন্তের, নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ

কলকাতা, ১৪ আগস্ট– নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করার পরেই রাজ্য সরকারের তরফে কেড়ে নেওয়া হয় বঙ্গবিভূষণ সম্মান। তারপরেও নিজের বক্তব্যে অনড় ছিলেন বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ অনন্ত মহারাজ। শেষপর্যন্ত শুক্রবার ভোলবদল করলেন তিনি। আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য সোশাল মিডিয়ায় দুঃখ প্রকাশ করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। বললেন, ‘নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্যে কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

            নগেন্দ্র রায় তথা অনন্ত মহারাজ নেতাজি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘শুধু মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তা হলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।’ আর তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়।

            মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, নেতাজি সম্পর্কে কোনও বিরূপ মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। তারপরই গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেয় রাজ্য সরকার। মমতা জমানায় রাজ্যের তরফে এই সম্মান পেয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। রাজ্যের এই কঠোর পদক্ষেপের পরও বেশ কিছুক্ষণ আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেন অনন্ত। বলেন, “যে সময়ের কথা বলেছি, তখন আমার জন্ম হয়নি। আমি নেতাজিকে অপমান করিনি। কাউকে গালাগালও করিনি। নিজের মুখ থেকে কোনও মিথ্যা কথা বা মনগড়া রূপকথা বানিয়ে বলিনি। কারও নামে বদনামও করিনি। যেটা ইতিহাসের পাতায় রয়েছে, সেটাই সাধারণ মানুষকে বলেছি। শুধুমাত্র ঐতিহাসিক কিছু তথ্য সামনে তুলে ধরেছি। আমি অন্যায় করে থাকলে আইনি শাস্তি দেওয়া যেতেই পারে।” পরের দিনেই সুর বদল করে তিনি বলেন, “নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্যে কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

Sumit Chakraborty: