কলকাতা, ১৬ মে- দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থেকে প্রথম জেলা সফর শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনাচক্রে এই ডায়মন্ড হারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র বলে পরিচিত। শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার এই প্রশাসনিক বৈঠক করে পুলিশকে একাধিক নির্দেশ দেন শুভেন্দু।
আগামী ২১ মে এই ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভার নির্বাচন। তার কিছুদিনে আগে শুভেন্দুর এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। প্রশাসনিক বৈঠক করার পরে এই ফলতায় বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার সমর্থনে একটি দলীয় বুথ কর্মীসভাতেও যোগ দেন শুভেন্দু। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন সুনীল বনসল, অমিত মালবীয়দের মতো কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। এদিনের বৈঠক থেকে পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে হয়েছিল। পরে সেটি একটি রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন হয়েছিল। পুলিশের মঙ্গল কতটা হয়েছে জানি না। কিন্তু শান্তনু সিংহ বিশ্বাস, বিজিতাশ্বর রাউতদের মতো অফিসারদের সুবিধা হয়েছে। আজ থেকে পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দিলাম।’
‘সাগরিকা’ সরকারি টুরিস্ট হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। বিভিন্ন সময়ে এই জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে। শুক্রবারই এলাকার তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার বিধানসভায় এই অভিযোগ তুলেছিলেন। ঘটনাচক্রে সেই বর্ষীয়ান বিধায়ক পান্নালাল আজকের এই প্রশাসনিক বৈঠকে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করতে হাজির হন। আর তা নিয়েও শুরু হয় জল্পনা। তবে পান্নালাল বলছেন, এতে জল্পনার অবকাশ নেই। তিনি বিধায়ক। তার এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন। তাকে সম্মান জানানো তো সৌজন্য। তাই ফুলের তোড়া নিয়ে শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা হয়নি। তৃণমূল বিধায়ক বলেন, ‘আমি একটা ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানাতে এসেছিলাম। দেখলাম, তিনি উপরে উঠে গিয়েছেন। তাই চলে এলাম।’ পান্নালাল এ-ও জানান, মুখ্যমন্ত্রীই তাকে বলেছিলেন ডায়মন্ড হারবারে দেখা করবেন। তৃণমূল বিধায়কের কথায়, ‘কালকেও হাত ধরে বলেছে, পান্নাদা তুমি থেকো। আমি বলেছিলাম, প্রোটোকল তো থাকবে। বলেছিল, তবুও তুমি থেকো… । আমি এসেছি। চলে যাচ্ছি।’ যদিও দলবদল করছেন কি না প্রশ্ন করতেই বিধায়ক বলেন, ‘এ সব অবান্তর কথা।’