কলকাতা, ৩ জুলাই– পরিষদীয় দলে ভাঙণ ধরিয়ে বিধানসভায় নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের একঝাঁক বিধায়ক। এবার পার্টি অফিসেরও দখল নিল ঋতব্রত তৃণমূল। কলকাতার মেট্রোপলিটনের দলীয় কার্যালয়ে এদিন হঠাৎ করেই বিকেলে পৌঁছে যান ঋতব্রতরা। ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ আহমেদ খান, সন্দীপন সাহার মতো বিদ্রোহী বিধায়কেরা। তাদের দাবি, তারা তাদের পার্টি অফিসে এসেছে, এখানে অন্য কোনও কিছু ভাবা ঠিক নয়।
কারা আসল তৃণমূল, ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। ঋতব্রতের তৃণমূল বনাম কালীঘাটপন্থী তৃণমূল তরজা এখনও চলছে। ‘আসল’ তৃণমূলের দাবি জানায় দু’পক্ষই। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রতেরা। শুক্রবার দলীয় কার্যালয় ‘দখল’ করেন ঋতব্রতেরা। ভবনের বাইরের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। খবর পেয়েই ওই কার্যালয়ে পৌঁছে যান কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কুণাল ঘোষ। এই পার্টি অফিসটি কুণালের বিধানসভা এলাকাতেই। কুণাল বলেন, ‘যারা এসেছিলেন, তারা কি নির্দল প্রতীকে জিতেছেন? দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনও কাজ করব না। কর্মীরা কষ্ট পাচ্ছেন। এদিকে এঁরা হোটেল, বিজেপি নেতাদের বাড়ি যাচ্ছেন।’
ঋতব্রত তৃণমূল দাবি করেছে, ওই বাড়িটির মালিকের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়ে গিয়েছে। ফলে এবার থেকে এখানেই বসবেন তারা। কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান বলেন, ‘ই কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূলের আবেগ জড়িয়ে আছে। মালিকের সঙ্গে চুক্তিপত্রের সই হয়ে গিয়েছে। এই অফিস থেকেই কাজ হবে।’ শুধু তাই নয়, নতুন করে কার্যালয়ের দরজায় নতুন তালা লাগানো হয়েছে। গেটের চাবি এখন তাদের কাছেই থাকবে। সেই কথাই জানিয়েছেন দেন আখরুজ্জামান। কার্যালয়ের বাইরে নতুন করে দলের পোস্টারও ঝোলানো হয়েছে। সেই পোস্টারে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নেই। চেয়ারপার্সন হিসেবে নাম রয়েছে অরূপ রায়ের। সবমিলিয়ে পার্টি অফিসের দখল নিয়েও এবার দুই শিবিরের চাপানউতোর শুরু হলো।