কলকাতা, ১৭ এপ্রিল – বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে এসে শিল্পায়ন ইস্যুতে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। দাবি করলেন, বাংলায় শিল্পায়নের পরিবেশ নেই। বাংলা থেকে বিপুল সংখ্যক শিল্প সংস্থা তাই বাংলা ছেড়ে মহারাষ্ট্রে চলে যাচ্ছেন।
এদিন নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেওয়ার আগে নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি আগাগোড়া রাজ্যের তৃণমূল সরকারের সমালোচনায় সরব হন। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় শিল্প সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, যাদের বহু বছরের উপস্থিতি ছিল বাংলায়, কিন্তু তারা এখন অন্যত্র স্থানান্তরিত হচ্ছে। প্রায় ১৪০০টির মতো শিল্প পশ্চিমবঙ্গ থেকে মহারাষ্ট্রে গিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বড় বড় লিস্টেড কোম্পানিগুলোর একটি রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া মানেই সেখানে বিনিয়োগের পরিবেশে সমস্যা রয়েছে। শুধু রেজিস্ট্রেশন দিয়ে শিল্পের উন্নয়ন মাপা যায় না, বাস্তবে কতগুলি প্রোডাকশন শুরু করেছে সেটাই আসল সূচক।’
কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হলে দেশের সর্বত্র শিল্পায়ন যে কতটা জরুরি সেই কথা উল্লেখ করেছেন ফড়ণবীশ। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ ৩৫ বছরের নিচে এবং এই বিপুল যুবশক্তির জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে শিল্পায়ন অত্যন্ত জরুরি। সরকার একা চাকরি দিতে পারে না, বরং একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে— যেখানে প্রাইভেট সেক্টর কর্মসংস্থান তৈরি করবে।’ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছে। রাজ্যের জিএসডিপি-র তুলনায় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে ২৫ শতাংশের বেশি হলেই তা বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। তুলনায় মহারাষ্ট্রে এই হার প্রায় ১৮ শতাংশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্যে নেওয়া ঋণ মূলত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং আগের ঋণের সুদ মেটানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ভারসাম্য আরও খারাপ হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচারেও পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে রয়েছে।’
বিভিন্ন কেলেঙ্কারি এবং আর্থিক অনিয়মের কারণে রাজ্যের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও সরব হয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। সিএজি রিপোর্টে বিপুল অঙ্কের অর্থের হিসাব না পাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং শুধুমাত্র সুশাসন ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারলেই আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে রাজ্য আবার দেশের প্রথম সারির অর্থনীতির মধ্যে ফিরে আসতে পারে।’