কলকাতা অফিস, ১০ অক্টোবর- আপৎকালীন পরিস্থিতিতে পুলিশ যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে পারে সেজন্য এবার ১১২ পরিষেবা চালু হল বঙ্গে। মহালয়ার দিনে পুলিশের বহরে যুক্ত হলো সাড়ে চাড়শো মোটরবাইক। থানা প্রতি বরাদ্দ একটি করে গাড়ি-মোটরবাইক। ৫ মাসে প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে ফেলতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী বললেন, পুলিশের গায়ে হাত দিলে অবস্থা খারাপ হবে। পার্কস্ট্রিট কাণ্ড মনে করিয়ে ফের হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আগে ১০০ নম্বরে ফোন করলে কোনও সাড়া পাওয়া যেত না। পুলিশ দপ্তরের মন্ত্রী হওয়ার পর ৫ মাস ধরে গোটা রাজ্যের পুলিশ সিস্টেমে ভিতরে ঢুকেছি। বারাকপুর কমিশনারেটে গেছি। তারাতলায় যাঁরা মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছি তাঁকে ‘জীবনরক্ষক সম্মান’ দিয়েছি। পুলিশ-দমকলকে সম্মান জানাতে ধন্যবাদজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে গিয়েছি। পুলিশের সব কন্ট্রোল রুমে ঘুরেছি। গোটা রাজ্যের লাইভ ট্রাফিক সিস্টেম চালু করার কাজ করেছি। হিটকো, এনকেডিএ-কে অনুরোধ করে পুলিশ বন্ধুদের রেনকোট তুলে দিয়েছি ভবানীভবনে।’
বিগত সরকারের আমলে পুলিশকে ‘ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার’ করে রাখা হয়েছিল বলে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দুর বার্তা, ‘বর্তমানে লাখ প্রতি পুলিশের সংখ্যা ১৫৫। যোগীরাজ্যে লাখে ২০০ পুলিশ। আগের সরকারের আমলে আমাদের রাজ্যে সেই সংখ্যা ছিল লাখ প্রতি ১০৫। ম্যানপাওয়ার না থাকলে, সিভিল স্ট্রং না থাকলে লড়াই করবেন কী করে?’ এরপরেই পার্কস্ট্রিটকান্ডের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ-সিআরপিএফের ভাইদের পাথর ছোড়া হয়েছিল পার্কস্ট্রিটে। সাংবাদিকদের সামনে বলে এসেছিলাম, কোনও পুলিশের গায়ে হাত দিলে তার অবস্থা খারাপ হবে। আসানসোলে ফাঁড়ি ভেঙে দিয়েছিল, টাকা আদায় করেছি।’ রাজ্য পুলিশে নিয়োগের ব্যাপারেও আজ মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘ওবিসি জটে আটকে ছিল পুলিশ নিয়োগ। আমি বিধানসভায় ডেকে আইন সংশোধন করেছি। রাজ্য সরকার যে মামলা করেছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি। আইনে জিতে পুলিশ বোর্ডের চেয়ারম্যান নীরোজ সিং সন্ধে ৭টায় সিলেকটেড লিস্ট পাবলিশ করে দিয়েছেন। ১১ হাজারের বেশি নতুন কনস্টেবল পুজোর আগে নিযুক্তি পেতে চলেছেন।’
বিগত সরকারের আমলে পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধন নিয়েও কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমাদের হাজার হাজার বছরের রীতি। মুখ্যমন্ত্রীকে কেউ এতো অধিকার দেয়নি যে, এই প্রাচীন রীতিকে বদলে ফেলবে। পুজোর কর্মকর্তাদের কাছে আমি অনুরোধ করেছি, লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যে যেন বিসর্জন সেরে ফেলা হয়।’