৩০ লক্ষ জরিমানার প্রস্তাব,ভেজাল বীজ রুখতে আসছে নতুন আইন!!
অনলাইন প্রতিনিধি :-কেন্দ্রীয় সরকার আগামী বাজেট অধিবেশনে সীড অ্যাক্ট ২০২৬ (নতুন বীজ আইন) বিল সংসদে পেশ করতে চলেছে। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সম্প্রতি এই প্রস্তাবিত আইনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরায় ত্রিপুরার কৃষক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ধান, সবজি ও ডালচাষে নির্ভরশীল রাজ্যের চাষিরা ভেজাল ও নিম্নমানের বীজের সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন আইনের প্রস্তাব তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত আইনে দেশব্যাপী বীজ ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।প্রতিটি বীজ প্যাকেটে কিউআর কোড থাকবে, যা স্ক্যান করলে কৃষক জানতে পারবেন বীজটি কোথায় উৎপাদিত, কোন্ কোম্পানি সরবরাহ করেছে এবং কোন্ ডিলার বিক্রি করেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কার্যকর হলে ত্রিপুরার গ্রামীণ হাট-বাজারে ভেজাল বীজের কারবার অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে। খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নিম্নমানের বীজ বাজারে প্রবেশ ঠেকানো হবে। যদি কোনোভাবে তা ঢুকেও পড়ে, দ্রুত শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যে অতীতে ভেজাল ও চোরাপথে আসা বাংলাদেশি ধান ও সবজি বীজ নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল।নতুন আইনের প্রস্তাব সেই সমস্যার সমাধানের দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া সব বীজ কোম্পানি ও ডিলারের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন থাকবে এবং অনুমোদিত বিক্রেতারা বীজ বিক্রি করতে পারবে না। এমন বিধানের কথা বলা হয়েছে। এতে রাজ্যের গ্রামীণ বাজারে ভুয়ো কোম্পানি ও প্রতারক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমতে পারে। বহু বছর ধরে রাজ্যে প্রচুর ভুয়ো কোম্পানির নিম্নমানের বীজের পেকেট বাজারে ছেয়ে আছে। আগরতলার গোলবাজার সহ বিভিন্ন স্থানে এই সব বীজ প্যাকিং হয়। প্যাকেটের গায়ে ভুয়ো ঠিকানা লেখা থাকে। এইসব বীজ কিনে নিয়মিত ঠকছে ও প্রতারিত হচ্ছে গ্রামের দরিদ্র কৃষকেরা। গুরুত্বপূর্ণভাবে, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, কৃষকদের ঐতিহ্যবাহী বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময় ব্যবস্থার উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।পাহাড়ি ও জনজাতি এলাকায় প্রচলিত বীজ আদান প্রদান প্রথা অক্ষুণ্ণ থাকবে।কৃষকরা নিজেদের বীজ ব্যবহার করতে পারবেন এবং স্থানীয়ভাবে বিনিময়ও করতে পারবেন। প্রস্তাবিত আইনে নিম্নমানের বীজ বিক্রির ক্ষেত্রে ৩০ লক্ষ পর্যন্ত জরিমানা এবং ইচ্ছাকৃত প্রতারণার ক্ষেত্রে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যমান সীড অ্যাক্ট ১৯৬৬ অনুযায়ী জরিমানা মাত্র ৫০০ টাকা। যা কার্যকর বর্তমান টাকার মূল্য মানে নেহাতই নগণ্য। ত্রিপুরার আটটি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে)এই নতুন ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রস্তাব সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। 'বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান'-এর আওতায় বিজ্ঞানী ও কৃষি আধিকারিকরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে বীজের মান যাচাই, কিউআর কোড ব্যবহার ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি শেখাতে পারেন বলে জানা গেছে। কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আইনটি পাস হলে এবং ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ত্রিপুরার কৃষি উৎপাদন বাড়বে, চাষের খরচ কমবে এবং ভেজাল বীজের কারণে চাষে ও চাষির ক্ষতি কমবে। খসরা বিলে বলা হয়েছে, কৃষি যেহেতু রাজ্যের বিষয়, তাই রাজ্য সরকারগুলির অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে। কেন্দ্র কেবল সম্ববয় ও নীতি-সহায়তা দেবে।
আগামী বাজেট অধিবেশনে আসতে চলা সীড অ্যাক্ট ২০২৬ বিল ত্রিপুরার কৃষকদের জন্য সম্ভাব্য সুরক্ষা-কবচ হয়ে উঠতে পারে। তবে তার কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের উপর।