সোনামুড়ায় পুলিশি অভিযানেনেশা কারবারির বাড়ি থেকে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

সংবাদ প্রতিনিধি সোনামুড়া, ৬ ফেব্রুয়ারী: নেশার সাগরে ভাসমান সোনামুড়ায় এক নেশা কারবারির বাড়ি থেকে ফের স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সেই সাথে উদ্ধার হয় ১০০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও কার্তুজ। এই ঘটনায় বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে সোনামুড়া থানার পুলিশ। ঘটনা সোনামুড়া থানাধীন সীমান্ত গ্রাম দুর্গাপুরের। সোনামুড়া থানার ওসি তাপস দাসের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিএসএফের যৌথ বাহিনীর অভিযানে আসে এই সাফল্য।

পাচার বাণিজ্য ও নেশা কারবারের হাত ধরে সোনামুড়া মহকুমার স্থানে স্থানে এখন আগ্নেয়াস্ত্রের রমরমা। কিছুদিন পরপর কোনো না কোনো স্থান থেকে উদ্ধার হচ্ছে রিভলভার, পিস্তল ইত্যাদির মতো অবৈধ স্বয়ংক্রিয় হাতিয়ার। এই অস্ত্রগুলি উদ্ধারের ঘটনায় নেশা ও পাচার বাণিজ্যের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। পূর্বেকার এ ধরনের বিভিন্ন ঘটনা ছেড়ে দিলেও গত ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে যাত্রাপুর থানার নির্ভয়পুর এলাকার এক নেশা কারবারির বাড়ি থেকে রিভলভার উদ্ধার হয়েছিল। অক্টোবরের শেষের দিকে সোনামুড়া থানার মধুবন এলাকা থেকে উদ্ধার হয় আরও এক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র পিস্তল। যাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সোনামুড়ার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া সেই উদ্বেগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে শুক্রবার ভোরের দুর্গাপুরের এই ঘটনা। সোনামুড়া থানার ওসি তাপস দাস জানিয়েছেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে দুর্গাপুরের আলি হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির ছাদের ওপর থেকে উদ্ধার হয়েছে সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এমএম রিভলবারটি। সেই সাথে উদ্ধার হয় ১ রাউন্ড কার্তুজ। বাড়িতে তল্লাশিকালে উদ্ধার হয়েছে ১০০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট। এই ঘটনায় বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রী মরিয়ম বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাংলাদেশ পাচারের উদ্দেশ্যেই এই নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ইয়াবা এই বাড়িটিতে মজুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে। কিন্তু রিভলভার ও কার্তুজ মজুত রাখার কারণ অনুসন্ধানে বর্তমানে সোনামুড়া থানার পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে জোর জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত আলি মিয়া জানিয়েছে সে পেশায় টমটম চালক। কিন্তু অভিযানকালে তার আলিশান বাড়ি দেখে হতভম্ব হয়ে যান অভিযানকারী দলে থাকা পুলিশ ও বিএসএফের আধিকারিকরা। তার এই টমটম চালনা যে শুধুই লোক দেখানো তা আর বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকের। সোনামুড়া থানার ওসি জানিয়েছেন এই ঘটনায় আরও কয়েকজন গ্রেপ্তার হতে পারে। সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। দুই অভিযুক্তকে আগামীকাল সোনামুড়া আদালতে প্রেরণ করা হবে। পুলিশ ছাড়াও এই অভিযানে ছিল বিএসএফ ৮১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা।

Dainik Digital: