দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ৬ মার্চঃ শিক্ষা দপ্তরের অধীন আড়াই দশকের অধিক সময় ডি আর ডব্লিও হিসাবে কর্মরত ৮ জনকে তিন মাসের মধ্যে নিয়মিত করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ৮ জন ডিআরডব্লিও কাঞ্চনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও গঙ্গানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে আড়াই দশক ধরে মাসিক মজুরির ভিত্তিতে চতুর্থ শ্রেণী পদের দায়িত্ব পালন করছেন। এই ৮ জন ত্রিপুরা হাইকোর্টে ২০২২ সালে রিট মামলা করেন। তৎকালীন বিচারপতি অরিন্দম লোধ ২৮ নভেম্বর, ২০২২ রিট মামলা খারিজ করেন। নিয়মিত করার সরকারি নীতির অবর্তমানে নিয়মিতকরণ দাবি করা যাবে না এই যুক্তিতে। একক বিচারপতির রায়ের বিরুদ্ধে রিট আপিল খারিজ করে উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে ৫ মার্চ, ২০২৪। এর বিরুদ্ধে ৮ জন ডি আর ডব্লিও সুপ্রিম কোর্টের এমএলপি দায়ের করেন। সুপ্রিম কোর্ট এমএলপি মঞ্জুর করে আপিলের শুনানি গ্রহণ করে। ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি এস নরসীমা ও বিচরাপতি অলক আরাধে ত্রিপুরা উচ্চআদালতের রায় খারিজ করে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে ৮ জন ডিআরডব্লিওকে নিয়মিত করতে হবে। বকেয়া বেতনের ত্রিশ শতাংশ প্রদান করতে হবে এবং পেনশনের ক্ষেত্রে চাকরির ধারাবাহিককতা বিবেচনা করতে হবে। রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সরকার বছরের পর বছর শোষণমূলক নিযুক্তির আশ্রয় নিতে পারে না। রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ত্রিপুরা সরকার অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের স্কিম চালু করেছিল ২০০৮ সালে। স্কিম অনুযায়ী দশ বছর ডিআরডব্লিও মেয়াদের পর নিয়মিতকরণের সুবিধা পাওয়া যাবে। এই স্কিম থাকাকালীন ২০১৬ -১৭ সালে ৮ জনকে নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক অনুমোদিত হয়। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনের কারণে নিয়মিতকরণ সিদ্ধান্ত মুলতবি রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার এসে নিয়মিতকরণের স্কিম বাতিল করে। উল্লেখ্য ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের একক বিচারপতি ও ডিভিশন বেঞ্চে আবেদনকারীদের পক্ষে বরিষ্ঠ আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বমর্ণ রাজ্য সরকারের ৩১ জুলাই, ২০১৮-এ জারি করা নিয়মিতকরণের স্কিম বাতিলের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে সওয়াল করেছিলেন। স্কিম চালু থাকাকালীন আবেদনকারীদের নিয়মিত হবার অধিকার পূর্ণতা পেয়েছিল। তাই তাদের নিয়মিতকরণ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিয়মিতকরণের স্কিম বাতিল করার বিষয়টি রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পড়ল।
এর অবৈধতা প্রকট হয়েছে স্পষ্টভাবে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উমাদেবী বনাম কর্ণাটক সরকার ও জাম্বোবনাথ ভারত সরকার ইত্যাদি মামলার রায়ের নজির টেনে বলা হয়েছে, আড়াই দশক ধরে অনিয়মিতভাবে নিযুক্তদের নিয়মিতকরণ থেকে বঞ্চিত রাখা যায় না। আবেদনকারীরা স্থায়ী কাজই করছেন। তাদের নিযুক্তিকে মরশুখী নিযুক্তি বলা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে রাজ্যের অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের প্রশ্নে আইনি রাস্তা খুলে গেল। রাজ্য সরকারেরর নিয়মিতকরণের স্কিম বাতিল করাও কোনোভাবেই ৪০ হাজার অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিত না করার সিদ্ধান্ত বিরাট ধাক্কা খেল। ৮ জন ডিআরডব্লিও’র পক্ষে ত্রিপুরা উচ্চ আদালতে ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়েছেন বরিষ্ঠ আইনজীবী বি এইচ মারলাপাল্লে, বরিষ্ঠ আইনজীবী পুরুষোত্তম রায়বমর্ণ, সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট অন রেকর্ড অজিত প্রবীন ওয়াঘে, আইনজীবী সমরজিৎ ভট্টাচার্য, কৌশিক নাথ ও আরাধিতা দেববর্মা। ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারী মঞ্চের আহ্বায়ক রতন দেবনাথ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিত করার দাবি সুপ্রিম কোর্টে মান্যতা পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মঞ্চ।