দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২১ ফেব্রুয়ারী : আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী থেকে নিয়মিতভাবে মৈত্রী ও শ্যামলী বাসের চলাচল শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে শ্যামলীর ট্রায়াল রান-এ একটি বাস শুক্রবারই আগরতলায় এসে পৌঁছায়। শনিবার কৃষ্ণনগর টিআরটিসি স্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশে গেল মৈত্রী। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাল পরিস্থিতির কারণে সে বছর সেপ্টেম্বরে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার মৈত্রী এবং শ্যামলী কর্তৃপক্ষ আলোচনাক্রমে নিয়মিত বাস চলাচলের সূচি তৈরি করে। দুই পারের সংশ্লিষ্ট লোকজন মনে করছেন বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রভাব এগুলি।
টিআরটিসির চেয়ারম্যান ইনচার্জ সমর রায় শনিবার জানিয়েছেন, দুই পক্ষের আলোচনাক্রমে স্থির হয়েছে প্রতি রবি, মঙ্গল এবং বৃহস্পতিবার মৈত্রী বাস আগরতলা থেকে ঢাকা যাবে। অন্যদিকে প্রতি সোম, বুধ ও শনিবার শ্যামলী ঢাকা থেকে আগরতলার উদ্দেশে রওনা দেবে। প্রসঙ্গত, এই বাস চলাচল বাংলাদেশ বা ভারত সরকারের কোনো সরকারী সিদ্ধান্তে বন্ধ হয়নি। বাস পরিবহণ, পরিচালন সংস্থাগুলি লোকসানের আশঙ্কায় নিজেরাই পথ থেকে বাস তুলে নেয়। দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় বাস চলাচল শুরুর আয়োজন সম্পর্কে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনার হাসান উলায়ি বলেন, এই পরিষেবা দুই দেশের সাধারণ মানুষের জন্যই দরকারি অথচ সাময়িককাল বন্ধ ছিল। পুনরায় চালু করার উদ্যোগ চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। ট্রায়াল চলছে। শীঘ্রই নিয়মিত যাত্রী পরিবহণ শুরু হচ্ছে।
ভিন্ন প্রশ্নের জবাবে হাসান উলায়ি বলেন, ভিসা প্রদান স্বাভাবিক হয়ে গেছে। শুক্রবারও তার দপ্তর থেকে ভিসা ইস্যু হয়েছে। তিনি আশাবাদী, দুই প্রতিবেশীর সুসম্পর্ক দ্রুত আগের চেহারায় ফিরবে। সীমান্তে ব্যবসা বাণিজ্যও দ্রুত পুরনো লয়ে ফিরে আসছে। আগরতলার রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী সংস্থাগুলিও দীর্ঘ ঝিমুনির পর এবার নড়েচড়ে বসছে। আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দরের নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী খোকন ভৌমিক জানান, গত রবিবার থেকেই যোগাযোগ বেড়েছে। বিজনেস প্রপোজাল, অর্ডার আসছে। কথাবার্তায়ও আগের মতো আন্তরিক ও আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি। আমরা আশাবাদী, খুব শীঘ্রই আগের মতো বাণিজ্যিক তৎপরতা শুরু হবে এই পথে। শনিবার আগরতলা থেকে ট্রায়াল রানে শ্যামলীর একটি বাস ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে শ্যামলীর বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা বাস চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে তাদের বিশ্বাসের কথা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থিতিশীল সরকার গঠন হয়েছে। এর পরপরই দুই দেশ ভিসা সরলীকরণ করেছে। ফলে আমাদের বাস চলাচলে আর কোনো সমস্যা রইল না।