অনলাইন প্রতিনিধি :- অফিসটাইমে ভয়াবহ যানজটে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে সরকারী কর্মচারীদের। নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে পড়ে অফিস পৌঁছাতে প্রায়শই দেরি। ফলে কাজের গতি থমকে যাচ্ছে, বসের তিরস্কার জুটছে, আর বায়োমেট্রিক হাজিরায় লেট উপস্থিতির কারণে অটোমেটিক ছুটি ও বেতন কাটার শিকার হচ্ছেন অসংখ্য কর্মচারী। অসহায় কর্মীরা বলছেন, অনেক আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়েও জ্যামের কাছে হার মানতে হচ্ছে।রাজ্যে সকাল ১০টা থেকে একটাই অফিসটাইম। এই একক সময়সূচিকেই এখন যানজটের মূল কারণ বলে মনে করছেন কর্মচারী ও শহরবাসীরা। একই সময়ে হাজার হাজার সরকারী কর্মচারী বাড়ি থেকে বেরোনোর ফলে সকাল সাড়ে ন’টা থেকে সোয়া দশটা পর্যন্ত শহরের প্রধান ও উপ-সড়কগুলিতে যানবাহনের চাপ চরমে পৌঁছায়।ঠিক এই সময়েই গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে মাটির ট্রাক, নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী লরি ও ভারী মালবাহী যান। বিশেষ করে ১২ ও ১৪ চাকার দৈত্যাকার লরিগুলি সরু শহুরে রাস্তায় ঢুকে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।যা দীর্ঘক্ষণ ধরে স্বাভাবিক হতে চায় না।সচেতন নাগরিক ও কর্মচারীদের প্রশ্ন, যে সময়ে সড়কগুলিতে অফিসযাত্রীর চাপ সর্বাধিক, ঠিক সেই সময়েই কেন ভারী লরির অবাধ চলাচল?কেন শহরের ভেতরে অফিসটাইমে লরি চলাচলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা নিয়ন্ত্রণ নেই? এই পরিস্থিতিতে জোরালো দাবি উঠেছে,সকাল সাড়ে ন’টা থেকে সোয়া দশটা পর্যন্ত (৪৫ মিনিট) ভারী লরির চলাচল সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখা হোক। সরকারের কাছে কর্মচারীদের আবেদন, এই সময়সীমায় লরিগুলিকে বাধ্যতামূলক ‘বিশ্রামে’ পাঠানো হোক অথবা বিকল্প রুট ও আলাদা সময়সারণী নির্ধারণ করা হোক। কর্মচারীদের মতে, এতে যানজট অনেকটাই কমবে। অফিসে সময়মতো পৌঁছানো সহজ হবে ও কর্মসংস্কৃতি ফিরবে এবং লেট উপস্থিতির অজুহাতে ছুটি ও বেতন কাটার মতো শাস্তির অবসান ঘটবে।কয়েকমাস ধরে সরকারী অফিসগুলিতে হাজিরা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি ক্রমশ বাড়ছে। সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অফিসে অফিসে বসানো হয়েছে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন।কিন্তু দ্রুত ও নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে পৌঁছানোর জন্য নেই সমান্তরাল কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। এই দ্বৈত নীতিতেই ক্ষোভ বাড়ছে কর্মচারীদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও ট্রাফিক কর্মীরা লাঠি ও বন্দুক হাতে রাস্তা পরিষ্কার করে দিলেও সাধারণ কর্মচারীদের জন্য সেই সুবিধা নেই। ফলে সব চাপ ও শাস্তির বোঝা এসে পড়ে সাধারণ । কর্মীদের কাঁধেই। শহরের যানজট এখন আর নিছক ট্রাফিক সমস্যা নয়। এটি । ক্রমশ কর্মসংস্কৃতির গভীর সংকটে পরিণত হচ্ছে। সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে ২ না পারলে দায় কার? কর্মচারীর, না কি অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থার? প্রশ্ন উঠছে, গুরুত্বপূর্ণ ৪৫ মিনিট ভারী লরিগুলির চলাচল নিষিদ্ধ করা বা আলাদা সময়সূচি, – পিক আওয়ারে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর মতো মৌলিক পদক্ষেপগুলি কবে নেওয়া হবে? শহরবাসী ও কর্মচারীদের অভিমত, শুধু শাস্তি নয়, দরকার বাস্তবসম্মত সমাধান। নচেৎ প্রতিদিনের এই সকালবেলার যানজটই ধীরে ধীরে শহরের কর্মজীবন,শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অচল করে দেবে।