শিক্ষিত বেকার যুবকদের সামনে,উচ্চশিক্ষিত অনুপ খুলে দিলো ফল চাষে সম্ভাবনার দ্বার!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-সরকারী চাকরির নিশ্চিন্ত গণ্ডি ছেড়ে মাটির টানে ফিরে আসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কাঞ্চনপুর মহকুমার দশদা এলাকার অনুপ নাথ। এম এসসি পাস করে একসময় টি আর এল এমের উঁচু পদে কর্মরত ছিল সে। সম্মানজনক পদ, স্থায়ী বেতন, সরকারী সুযোগ সুবিধা- সব কিছু থাকা সত্ত্বেও তার মন ভরেনি।অফিস ঘরের চেয়ার ছেড়ে অনুপ বেছে নিয়েছে কৃষিকে।আর সেই সিদ্ধান্তই আজ তাকে এনে দিয়েছে সাফল্যের নতুন পরিচয়। দশদা এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে গড়ে উঠেছে অনুপ নাথের পরিকল্পিত বাগান। কয়েক একর জমি জুড়ে তিনি চাষ করছেন আপেলকুল, মাল্টা, লেবু ও মুসাব্বিরের মতো নানা ফল। আধুনিক পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক পরামর্শ এবং নিজস্ব পরিশ্রমের সমন্বয়ে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যেই আপেলকুলের গাছে ফল ধরাতে সক্ষম হয়েছে অনুপ।ইতিমধ্যেই আপেলকুল বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছে অনুপ নাথ। শুধু তাই নয়, বাগানে থাকা গাছগুলিতে আরও কয়েক লক্ষ টাকার ফল রয়েছে। অল্প সময়ে এই সাফল্য এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং অনেক শিক্ষিত যুবকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে অনুপ নাথ।সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হল--এম এসসি পাস করে একসময় উঁচু পদে চাকরি করা অনুপ নাথ এখন নিজেই দশদা বাজারে বসে প্রতিদিন আপেলকুল বিক্রি করছে।কোনো সংকোচ নেই, কোনে আড়ষ্টতা নেই। বরং হাসিমুখে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলছে দর দাম করছে এবং নিজের উৎপাদিত ফল নিজ হাতে তুলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের হাতে। এই প্রসঙ্গে অনুপ নাথ জানায় বাজারে বসে কৃষকদের সঙ্গে গল্প করা সরাসরি ক্রেতার প্রতিক্রিয়া পাওয়া এবং নিজের উৎপাদিত পণ্য নিজে বিক্রি করার মধ্যে এক আলাদা আনন্দ রয়েছে। তার কথায় অফিসের টেবিলের চেয়ে এই বাজারের মাটিতে বসেই সে বেশি তৃপ্তি পায়।তার বাগানে মাল্টা চাষ বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে। এই অঞ্চলে মাল্টা চাষ তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও অনুপ নাথের উদ্যোগে তা এখন এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। উপযুক্ত মাটি নির্বাচন, সঠিক সেচ ব্যবস্থা ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরাও অনুপ নাথের বাগান দেখতে নিয়মিত আসছে। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছে। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই ফল চাষে নতুন করে উদ্যোগী হচ্ছে। শিক্ষিত যুবসমাজের কাছে তার এই পথচলা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে বলে মনে করছে এলাকাবাসী।কাঞ্চনপুর মহকুমার প্রত্যন্ত দশদা এলাকায় অনুপ নাথের এই সাফল্য প্রমাণ করছে - কৃষি শুধু জীবিকা নয় সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে তা হতে পারে সম্মানজনক ও লাভজনক পেশাও। সরকারী চাকরির মোহ ছেড়ে মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে সে দেখিয়ে দিলো সাহসী সিদ্ধান্তই কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।
Dainik Digital: