অনলাইন প্রতিনিধি :- রাজ্যসভা এবং পরবর্তীকালে লোকসভার সাংসদ হিসাবে মোট তিন বছরের কার্যকালে যাবতীয় কাজের রিপোর্ট রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। ধলেশ্বর তার ভাড়া নেওয়া আবাসনে বৃহস্পতিবার ভিড়ে ঠাসা এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ শ্রীদেব রাজ্যবাসী এবং উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলোর উন্নয়নে সংসদে তোলা দাবি ও তার কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথমে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তিনি দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী কালে লোকসভার সাংসদ হিসেবে তার দেড় বছর কার্যকাল সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন বছর তিনি সাংসদ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংসদ এলাকা উন্নয়নে প্রতিবছর পাঁচকোটি টাকা করে পান প্রত্যেক সাংসদ। সেই হিসাবে গত তিন বছরে তার সাংসদ এলাকা উন্নয়ন
ফান্ডে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে তিনি গত তিন বছরে ৩৫ টি ছোট বড় প্রকল্পে মোট ১৪ কোটি ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৬৮ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এর মধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন ১৩ টি প্রকল্পের জন্য দিয়েছেন ৪ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৭হাজার ৫৯১ টাকা। লোকসভার সাংসদ হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ টি প্রকল্পের জন্য দিয়েছেন ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ২৬৮ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ টি প্রকল্পের জন্য দিয়েছেন ৬ কোটি ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭০৯ টাকা। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ১৯ টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কমিউনিটি সেন্টার, মার্কেট শেড, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যোগা ইন্ডোর স্টেডিয়াম, ওপেন জিম সহ আরও একাধিক প্রকল্প।তিনি জানান, এই সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে রাজ্যের ১৪ টি অসহায় পরিবারকে নানা কারণে ৩২ লক্ষ ৪০ হাজার ২৪০ টাকা সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ শ্রীদেব আরও বলেন, সর্বশেষ লোকসভা অধিবেশনে (১ থেকে ১৯ ডিসেম্বর) তিনি ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বের অন্যান্য রাজ্যগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট মোট ১১টি বিষয় (প্রশ্ন ও দাবি) উত্থাপন করেছেন। এগুলির মধ্যে রয়েছে জনসুরক্ষা বিষয়, পুনর্নবীকরণ শক্তি বিষয়ক, শিল্প উন্নয়ন বিদ্যুৎ ক্ষেত্র উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নয়ন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স হবে, জনজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের স্কলারশিপ প্রকল্প সহ আরও একাধিক বিষয় রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ শ্রীদেব আরও বলেন, আগরতলা এমবিবি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারা আশা খুব শীঘ্রই গুয়াহাটি-আগরতলা- ব্যাঙ্কক বিমান পরিষেবা চালু করার অনুমোদন দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমানে গুয়াহাটি- ব্যাঙ্কক বিমান পরিষেবা চালু রয়েছে। এই রুটে আগরতলাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে, সাংসদ শ্রীদেব। তারা আশা খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকার এই ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি জানান, রাজ্যের রেল পরিষেবাকে উন্নত করার জন্যও তিনি বেশকিছু দাবি উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে কিছু কিছু দাবি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। যেমন আগরতলা- ধর্মনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে আধুনিক বগি, সাব্রুম-কলকাতা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে আধুনিক বগি, রেলস্টেশন গুলির স্বচ্ছতা ইত্যাদি। এর জন্য তিনি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।এছাড়াও এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ শ্রীদেব বলেন, রাজ্যে বর্তমানে ১১ টি জাতীয় সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এই কাজগুলির গুণমান বজায় রাখা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার এবং ঠিকাদার সংস্থার উপর কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সংশি-লষ্ট মন্ত্রকে। প্রয়োজনে ওই সব ঠিকাদার এবং ঠিকাদার সংস্থাকে চিহ্নিত করে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন। তিনি জানান, এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়াও এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ শ্রীদেব তার কর্মকাণ্ডের আরও একাধিক তথ্য তুলে ধরেন রাজ্যবাসীকে অবগত করার জন্য। একই সাথে রাজ্যের সাংগঠনিক বিষয়, এডিসি নির্বাচন, বিজেপি-তিপ্রা মথার সম্পর্ক, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ইত্যাদি নানা ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন।