রাজ্যজুড়ে দেদার সড়ক বেদখল উধাও এনফোর্সমেন্ট ও টাস্কফোর্স!!

অনলাইন প্রতিনিধি :- রাজ্যের রাস্তাঘাট নির্বিবাদে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। জাতীয় সড়ক থেকে শুরু করে রাজ্য সড়ক বা গ্রামীণ সড়ক কিছুই বাদ নেই।সড়ক বেদখলমুক্ত করার জন্য আলাদা টাস্কফোর্স বা এনফোর্সমেন্ট বিভাগের অস্তিত্বও কারোর চোখে পড়ছে না। আদৌ এ ধরনের দরকারি ইউনিট আছে কিনা রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ জানেই না।বাস্তবে এমন কোনো সক্রিয় ব্যবস্থা আছে বলে মাঠে তার কোনো চিহ্ন নেই। ফলে রাজ্যজুড়ে জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক থেকে শুরু করে পূর্ত (পিডব্লিউডি) রাস্তা পর্যন্ত সর্বত্রই অবাধ বেদখল চলছে।রাস্তা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে,যানজট বাড়ছে, দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সড়কের ক্ষেত্রে বেদখল চিহ্নিত করা ও উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়ার কথা এনএইচএআই এবং এনএইচআই-ডিসিএল-এর এনফোর্সমেন্ট সেল বা রাইট অফ ওয়ে (আরওডব্লু) ইউনিটের। কিন্তু বাস্তবে রাজ্যে এই বিভাগগুলির কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। তাত্ত্বিকভাবে এনএইচএআই নোটিশ দিতে পারে এবং জেলা প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদ অভিযানের অনুরোধ জানাতে পারে। কিন্তু মাঠে সেই সমন্বয় কার্যত অনুপস্থিত।ফলে ফুটপাথ দখল,রাস্তার ধারে অবৈধ দোকান,বেআইনি নির্মাণ,এমনকী রাস্তার উপর পার্কিংও অবাধে চলছে।
একই অবস্থা রাজ্য সড়ক ও পূর্ত দপ্তরের রাস্তার ক্ষেত্রেও। রাজ্য পূর্ত দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ এনক্রচমেন্ট টাস্ক ফোর্স থাকার কথা থাকলেও সাধারণ মানুষ এমন কোনো টিমের নামও শোনেনি। কোনো নিয়মিত অভিযান নেই। নেই পরিকল্পিত অবৈধ দখলকার উচ্ছেদ কর্মসূচি।ফলে গ্রামীণ রাস্তা থেকে শহরের প্রধান সড়ক, সবখানেই রাস্তার প্রস্থ ক্রমশ কমে আসছে। এর সরাসরি ফল হিসেবে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ যানজট, যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাড়ছে আহত ও মৃত্যুর ঘটনা।পথচারীরা প্রাণ হাতে চলাচল করতে হচ্ছে।গাড়ির ধাক্কা ও চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনাও আকছার ঘটছে।আগরতলা, উদয়পুর, ধর্মনগর, তেলিয়ামুড়া, বিশালগড়, শান্তিরবাজার সর্বত্র একই ছবি। ফুটপাথের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। বাজার এলাকায় রাস্তার অর্ধেকটাই দখল হয়ে গেছে দোকান, হকার, অস্থায়ী কাঠামো ও অবৈধ পার্কিংয়ে। অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের গাড়ি ঢোকাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেন রাজ্যে প্রশাসন বলে কিছু নেই। জেলা প্রশাসন, পিডব্লিউডি, পুলিশ এবং এনএইচএআই কেউই কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না। মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদ অভিযান হলেও তা হয় লোকদেখানো এবং অল্পদিনের মধ্যেই ফের একই অবস্থা হয়ে যায়।আইন অনুযায়ী, জাতীয় সড়ক বেদখলমুক্ত করার দায়িত্ব এনএইচআইডিসিএল এবং জেলা প্রশাসনের যৌথভাবে। রাজ্য সড়কের দায়িত্ব রাজ্য পিডব্লিউডি ও জেলা প্রশাসনের। আর পিডব্লিউডি বা গ্রামীণ রাস্তার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও পিডব্লিউডির দায়িত্ব। কিন্তু ত্রিপুরায় এই কাঠামো কার্যত কাগজেই সীমাবদ্ধ। কোনো স্থায়ী টাস্কফোর্স নেই। নেই নিয়মিত মনিটরিং। নেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। ফলে বেদখলকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।পর্যবেক্ষকদের মতে, অবিলম্বে সক্রিয় ও স্থায়ী এনক্রচমেন্ট টাস্কফোর্স গঠন, নিয়মিত অভিযান এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ব্রাজ্যের সড়ক পরিকাঠামো আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।
Dainik Digital: