অনলাইন ডেস্ক, ১১ ফেব্রুয়ারী (পিটিআই): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিচ্ছে সরকার। ভারতের শক্তি নিরাপত্তা আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এখন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করবে ভারত কার কাছ থেকে তেল কিনবে, কার কাছ থেকে নয়। তারা প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাবে এবং তাদের মনপছন্দ বিক্রেতার কাছ থেকে তেল না কিনলে, আমেরিকা ভারতকে শাস্তি দেবে। এমনকী দেশের কৃষকদের স্বার্থ নিয়েও আপোষ করা হচ্ছে। আমেরিকার কথা ও শর্ত অমান্য করলে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশও করতে পারে ওয়াশিংটন। লোকসভায় বাজেটের উপর বিতর্কে অংশ নিয়ে এই কথাগুলো বলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ট্রেজারি বেঞ্চের বিরুদ্ধে অভিনব আক্রমণ হেনে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা বলেন, সরকার আমেরিকার কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করেছে। দেশ ও দেশবাসীর স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আমেরিকার তাঁবেদারি শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন মোদি ভারতকে বিক্রি করে দিচ্ছেন? এর উত্তরও দেন রাহুল। তিনি বলেন, মার্শাল আর্টে আমরা দেখি কীভাবে প্রতিপক্ষকে বাগে এনে পরবর্তী সময় তাকে শ্বাসরোধ করা হয়। তখন প্রতিপক্ষ মাটিতে টোকা মেরে রণে ভঙ্গ দেয়। এটি একটি কৌশল। একইভাবে মোদিকে শ্বাসরোধ করে আমেরিকা তার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে মানিয়ে নিচ্ছে। অথচ যে কোনো চুক্তির আগে আমাদের উচিত আমেরিকার কাছ থেকে সমান মর্যাদা দাবি করা। রাহুল আরো বলেন, নতুন এই সমীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো ভারতীয় তথ্য। প্রথমত আমেরিকা যদি তার ডলারকে বাঁচাতে চায় তবে তাকে স্বীকার করতে হবে ভারতীয় তথ্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ। দ্বিতীয়ত রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে বলে দিতে হবে ভারতীয় তথ্য পেতে চাইলে আমাদের সাথে সমান ব্যবহার করতে হবে। আমাদের শক্তি নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপোষ সম্ভব নয়। আমরা যে কোনো মূল্যে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবো। এদিকে লোকসভায় রাহুল গান্ধীকে পাল্টা আক্রমণ করে সরকার পক্ষ। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, দেশের সর্বকালের সেরা প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদি। তার নেতৃত্ব অনমনীয়। এমন কোনো মায়ের সন্তান জন্ম নেয়নি যে আমাদের দেশকে বেঁচে দেবে অথবা কিনে নেবে। বিজেপি সদস্য অনুরাগ ঠাকুর বলেন, নির্বাচনের পরপর পরাজয় রাহুল গান্ধীর মাথাটা খারাপ করে দিয়েছে। তার মন বিষিয়ে উঠেছে। সংসদীয় আইন, অধ্যক্ষ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, প্রধানমন্ত্রী সর্বোপরি দেশকে ঘৃণা করতে শুরু করেছেন তিনি।