অনলাইন প্রতিনিধি :-বর্তমান সরকারের আমলেই রাজ্যের মাথাপিছু আয় ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার চিত্র ধরা পড়ে ব্যাঙ্কগুলির দিকে লক্ষ্য করলে। এ কথা বললেন রাজ্যের কৃষি ও বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ। রাজ্যের মানুষের আয় বৃদ্ধির যুক্তি দেখাতে গিয়ে এক তথ্য দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ৪২ লক্ষ লোকের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলিতে অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৩১ লক্ষ ২৫ হাজার ৪২৯ জনের। টাকা জমা রয়েছে ১০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। শুধু গ্রামীণ ব্যাঙ্কের একটা হিসেব দেখলেই বোঝা যায় মানুষের আয় বর্তমানে কোন স্তরে রয়েছে। বৃহস্পতিবার মোহনপুর বাজারে মোহনপুর গ্রামীণ ব্যাঙ্ক শাখার এটিএম, অটোমেটিক পাসবুক প্রিন্টিং মেশিনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথাগুলি কৃষিমন্ত্রী বলার পাশাপাশি সকল মানুষকে ঘরে সব টাকা না রেখে ব্যাঙ্কে টাকা রাখার জন্য আহ্বান রাখেন।অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোহনপুর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অনিতা দেবনাথ, মোহনপুর পুর পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শংকর দেব, মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন রাকেশ দেব, ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান সত্যেন্দ্র সিং, জেনারেল ম্যানেজার অনুপ কুমার সাহা, রিজিওনাল ম্যানেজার সুজিত রায়, মোহনপুর গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার তন্ময় রায়, কাউন্সিলর কার্তিক আচার্য এবং মোহনপুর বাজার কমিটির সভাপতি দীপক ভট্টাচার্য সহ অন্যরা। এদিন মন্ত্রী সেখানে নিজের নামে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটা সময় মানুষ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রাখতে সেরকম ইচ্ছুক ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে শূন্য ব্যালেন্সে অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করে দিয়ে মানুষকে ব্যাঙ্কমুখী করে একটা দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। তা হল করোনার সময় সেই জমাকৃত টাকা মানুষের কাজে লেগেছে।তাছাড়া রাজ্যে বর্তমান সরকারের শাসনে মানুষের আয় অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ সাত বছর আগে ছিল ৫১২টি। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৬১৪টিতে। মোহনপুরের বাজারের দোকানদার সহ মানুষের অনেকদিনের আশা ছিল এই এটিএম সেন্টারের। আজ পূরণ হলো এবং মানুষের লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হল। রাজ্য সরকারের প্ল্যানিং হচ্ছে ২০৩০-এর মধ্যে মানুষের গড় আয়ু কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়। এই কথাটা শুনলে হয়তো হাসি পাবে। কিন্তু যুক্তি হলো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, রাস্তাঘাট এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়ন যখন হয় তখন মানুষ মানসিকভাবে অনেক বেশি সুস্থ থাকে। মানুষের আয় বৃদ্ধির বিষয়ে একটি ছোট্ট তথ্য সহ উদাহরণ দিয়ে বলেন, মোহনপুর গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখায় গ্রাহক রয়েছে ২৮ হাজার ৬২৮ জন। আর ওই ব্যাঙ্কের টাকা জমা রয়েছে ৫৫ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা এবং ব্যাঙ্ক ঋণ দিয়েছে ২৯ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। এই ছোট্ট মোহনপুর এলাকা দিয়েই বোঝা যাচ্ছে গোটা রাজ্যের মানুষের আর্থিক উন্নয়ন কিরকম বৃদ্ধি পেয়েছে।