ভিবি জি রাম জি প্রকল্পে,অধিক কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি পাবেন মানুষ : সুশান্ত!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-২০০৫ সালে এমজিএনরেগা প্রকল্প চালু হবার পর সরকারী এই প্রকল্পের অর্থ দেদার লুট হয়েছে গোটা রাজ্যে। বামফ্রন্ট সরকার ২০০৫ সালের পর থেকে রেগার অর্থ ব্যবহার করে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল ২০১৮ অবধি। এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী এমজিএনরেগা প্রকল্পকেই নতুন আইনে নিয়ে এসেছেন সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং গ্যারান্টিযুক্ত গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রূপে। যার নতুন নামকরণ বিকশিত ভারত রোজগার এবং আজীবিকা মিশনের জন্য গ্যারান্টি (গ্রামীণ) সংক্ষেপে ভিবি জি রাম জি। জি রাম জি শোনা মাত্রই বিরোধীরা শুরু করে দিয়েছেন অপপ্রচার। রেগা প্রকল্পে দুর্নীতি দমনে নতুন আইন ভিবি জি রাম জি সর্বকালের সর্ববৃহৎ গ্যারান্টিযুক্ত প্রকল্প বলে জানিয়েছেন খাদ্য, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।মঙ্গলবার বিকেলে বিজেপি জেলা কার্যালয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করতে গিয়ে পূর্বের রেগা প্রকল্পে দুর্নীতি চিত্র এবং বর্তমান নতুন আইনে ভিবি জি রাম জি প্রকল্পের সুবিধাগুলো তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। তিনি জানান, পূর্বে রেগা প্রকল্পে কাজের গ্যারান্টি থাকতো ১০০ দিন, এবার এই নতুন আইনে কাজের গ্যারান্টি থাকছে ১২৫ দিন।তাছাড়া রেগা প্রকল্পে এ রাজ্যেই দুর্নীতি ছিলো মারাত্মক কিন্তু নতুন আইনে দুর্নীতিমুক্ত এবং কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি দিচ্ছে ভারত সরকার, যা আগে ছিলো না। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী তথ্য তুলে ধরে বলেন, রেগা প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার করে বিগত দিনের সরকার ২০০৫ সালের পর থেকে তাদের সমর্থনের হার বাড়িয়ে দু নেয়। তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ্য করবেন, ২০০৫ সালের আগে রাজ্য বিধানসভার বহু আসনে বিরোধীরা এক ভোট, দুই ভোট, পাঁচ ভোট, দশ ভোটের ব্যবধানে হেরেছে। আর ২০০৫ সালের পর থেকে সেই ব্যবধান হাজার পেরিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, পর্যটন মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের শেষের সাত বছর গ্রামীণ কর্মসংস্থানে ব্যয় করেছিল ৬ কোটি ৪০ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা আর বর্তমান সরকার বিগত সাত বছরে কর্মসংস্থানে ব্যয় করেছে ৭ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা।মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, বিগত দিনে দেখা গেছে রেগা প্রকল্পের অর্থ নগদে দেওয়া হতো। একজন রেগা শ্রমিকের মজুরি থেকে ৫০ টাকা কেটে রাখা হতো পার্টি ফান্ড বাবদ। ওই সময়ে রেগা প্রকল্পের অর্থে রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমায় তৈরি হয়েছে সিপিএম দলের বড় বড় পার্টি অফিস। রাতারাতি নেতৃত্বরা ফুলেফেঁপে উঠেছিল। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে ছিলো কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি। বিশালগড় ব্লক, দশদা ব্লক, পেঁচারথল ব্লক সহ বিভিন্ন ব্লকে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে স্পেশাল অডিটের ফলে। তখনকার সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী বাদল চৌধুরীকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়েছিল।চারদিক জুড়ে শুধু ছিলো রেগার অর্থ লুটপাট।
২০১৪ সালে কেন্দ্রে এনডিএ সরকার গঠনের পর রেগা প্রকল্পের কাজে দুর্নীতি দমন করতে জিও ট্যাগিং শুরু করার পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার শুরু করা হয়।মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ২০৪৭ সালের দিকে লক্ষ্য রেখে ভারত সরকার সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত ভারত তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে।তিনি বলেন,বর্তমান সময়ে এই নতুন আইনে জিও ট্যাগিং করার ক্ষেত্রে এ-আই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
Dainik Digital: