বৈভব ব্যাটিং তাণ্ডবে কুপোকাত ইংল্যান্ডযুব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ভারত

বৈভব সূর্যবংশীর ৮০ বলে বিধ্বংসী ১৭৫ রানের ইনিংস সৌজন্যে ইংল্যান্ডকে একশো রানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব উনিশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়েই ঘরে ফিরছে আয়ুষ মাত্রের দল ভারত। শনিবার থেকে ঘরের মাঠে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দাদাদের নামার কয়েক ঘন্টা আগেই বিশ্বকাপ জিতে ঘরে ফিরছে অনূর্ধ্ব উনিশ ভারতীয় দল।

ভারত: ৪১১/৭ (৫০ ওভার)
ইংল্যান্ড: ৩১১ (৪০.২ ওভার)

হারারে, ৬ ফেব্রুয়ারী: হারারে স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে ভারতের
৪১২ রানের টার্গেটের সামনে ইংল্যান্ডের লড়াই থামে ৩১১ রানে। সৌজন্যে অবশ্যই কেলাব ফালকোনারের হার না মানা ব্যাটিং বিক্রম (১১৫)। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। দলীয় ব্যাটিং ভরাডুবির মধ্যেও ৬৭ বলে তার ১১৫ রানের লড়াকু ইনিংসটি দাম পায়নি। যদিও দল ফাইনালে ভারতের কাছে পরাজয়ের ব্যবধান কমায়। অনূর্ধ্ব উনিশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য ফের দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। জয়ের জন্য ৪১২ রানের বিশাল টার্গেটের সামনে খেলতে নেমেই ইংলিশ ব্যাটিং লাইনে বড় ধাক্কা দেয় অম্বরিশ। জেমস মুয়েসকে (১৭) শুরুতেই ফিরিয়ে দেয় অম্বরিশ। এরপর বেন ডকিনস ও বেন মেয়াস জুটি ব্যাটিং প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এই জুটি এক সময় উইকেটে সেট হতেই ইংল্যান্ড চাপ কাটিয়ে উঠতে থাকে। ঠিক এই সময়ই খিলন প্যাটেল মেয়াসকে ৪৫ (২৮) আউট করে জুটি ভাঙে। ৯৩/২ থেকে ডকিনস ও টি-রেও জুটি দাঁতে দাঁত চেপে দলকে টেনে তুলতে থাকে। এই জুটি যখন দলের জন্য অস্বস্তি বাড়াচ্ছিল ঠিক তখনই রেওকে (৩১) ফিরিয়ে দেয় কনিষ্ক চৌহান। কেলাব ফালকোনারকে নিয়ে জুটি বাঁধে ডকিনস। এই জুটিতে স্কোর ১৭৪/৪ রান উঠতেই ডকিনসকে ৬৬ (৫৬) ফিরিয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে আসে অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে।

এদিকে ফালকোনারে একদিক ধরে রাখলেও অন্য প্রান্তে উইকেট পতন চলতে থাকে। দীপেশ দেবান্দ্রান এফ আহমেদ (১) ও সেবিস্তিয়ান মর্গানকে (০) পরপর ফিরিয়ে যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ষষ্ঠ ট্রফি জয়ের পথ আরও মসৃণ করে দেয়। ১৭৪/৪ থেকে এক সময় ইংল্যান্ডের স্কোর ১৭৭/৭। ভারতের ম্যাচ জয় তখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এদিকে, ফালকোনার ও মিন্টো উইকেটে সেট হয়ে দলকে টেনে তুলতে থাকে। জুটিতে ১৭৭/৭ থেকে স্কোর ২৬০/৮ হয়। ৯২ রান যোগ হলে জুটি ভাঙে অম্বরিশ। ফালকোনার ব্যাটিং পতনের মধ্যেই ৬৩ বলে নিজের শতরান (১০৪) করে দলকে তিনশো রানে তুলে আনে। শেষ পর্যন্ত কনিষ্ক চৌহান ফালকোনারকে ১১৫ (৬৭) আউট করতে ইংল্যান্ড ৩১১ রানে শেষ হয়। একশো রানের জয় তুলে বিশ্বকাপ জিতে ভারত। তার আগে টস জিতে ভারত ১৯-এর অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে প্রথম ব্যাটিং নেয়। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি এ দিন। আফগান ম্যাচে শতরানকারী এরন জর্জ এদিন মাত্র নয় রানেই আউট। এরপরই চেনা ব্যাটিং ছন্দে ঝড় তুলে বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র আশি বলে ইংলিশ বোলারদের বেদম প্রহার করেই যখন থামেন তখন তার নামের পাশে স্কোরবোর্ডে আশি বলে ১৭৫ রানের ইনিংসটি জ্বল জ্বল করে। ১৭৫ রানের টি-টোয়েন্টি মেজাজের ইনিংসটি বৈভব পনেরোটি চার ও পনেরোটি ছক্কায় সাজান। মাঠের এমন কোনও দিক ছিল না যেখানে তার চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটে। অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রেকে ৫৩ সঙ্গী করে দ্বিতীয় উইকেটে ১৪২ রান তুলে বৈভব দলীয় ২৫.৩ ওভারে ১৭৫ রানে আউট হয়। এরপর বেদান্ত ত্রিবেদী (৩২), বিহান মালহোত্রা (৩০), অভিজ্ঞান কুন্ডু (৪০)। অভিজ্ঞান যখন আউট কনিষ্ক হয় দলের স্কোর তখন ৩৫৯/৬। চৌহানের অপরাজিত ৩৭ রানে ভর দিয়ে ভারত ১৯ দল পঞ্চাশ ওভারে নয় উইকেটে ৪১১ রান তুলে। একদিন আগেই ৩১২ রান করেছিল দল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুক্রবার ফাইনালে দলীয় স্কোর ৪১১/৯ রানে পৌঁছে দেয়। সেবিস্তিয়ান মর্গান (৭৪/২), এলেক্স গ্রিন (৪৯/২) ও জেমস মিল্টো (৬৩/৩) ইংল্যান্ডের তিন সফল বোলার।

Dainik Digital: