বিকশিত ভারত যুব সংসদ-২৬, রাজনীতিতে অপরিহার্য যুবরা: রতন!!

দৈনিক সংবাদ অনলাইন, ১৫মার্চ: যুবসমাজই আগামী দিনের দেশের নির্মাতা। সৎ ও শিক্ষিত মানুষের অংশগ্রহণ রাজনীতিতে না থাকলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই দেশ এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনীতিতে যুব সমাজের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। শনিবার ত্রিপুরা বিধানসভায় আয়োজিত রাজ্যস্তরের “বিকশিত ভারত যুব পার্লামেন্ট ২০২৬” অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথাগুলি বলেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

যুব ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের আটটি জেলার যুব প্রতিনিধিরা অংশ
নেন এবং সংসদীয় রীতিনীতির সঙ্গে পরিচিত হন এবং “কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬” নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এদিন বিধানসভায় “বিকশিত ভারত যুব পার্লামেন্টে” অধ্যক্ষের আসনে ছিলেন রাজ্য বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায়, রাজ্যের যুব ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস, সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা, তিপ্রা মথা দলের বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দেববর্মা প্রমুখ।

যুব পার্লামেন্টে মূল বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ আরও বলেন, ভারত ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে আমাদের এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত করতে হবে। হাতে আর মাত্র ২২ বছর সময় রয়েছে, তাই এখন থেকেই আমাদের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। আমি এখানে শুধু বক্তৃতা দিতে আসিনি, বরং চিন্তা, সাহস এবং দায়িত্ববোধের আগুন জ্বালাতে এসেছি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম হোক বা সামাজিক সংস্কার সব ক্ষেত্রেই যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজও এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। আমাদের অনেক শত্রু রয়েছে, তবে প্রধান শত্রু হলো দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিরক্ষরতা এবং বৈষম্য। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই সমস্যাগুলি অনেকটাই কমেছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। তবে গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; গণতন্ত্র মানে বিবেকের চর্চা, ভিন্ন মতকে সম্মান করা এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস রাখা।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে দেশই প্রথম। এটি স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, গৌতম বুদ্ধ এবং মহাত্মা গান্ধীর দেশ। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, কিন্তু কেউ যদি আমাদের দিকে আঙুল তোলে, এর জবাব কীভাবে দিতে হয় তা আমরা জানি। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগামী প্রজন্মই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। উন্নয়ন শুধু জিডিপি বৃদ্ধি নয়; গ্রামের ছাত্রদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া, কৃষকদের আর্থিক স্থিতি নিশ্চিত করা এবং নারীদের সুরক্ষা দেওয়াও উন্নয়নের অংশ।

আজ ভারত বিশ্বমঞ্চে এক শক্তিশালী যুব জনসংখ্যার দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের প্রধান শক্তি হলো মানবসম্পদ, যা বিশ্বের অন্য কোথাও এত সমৃদ্ধ নয়। এটি আমাদের দেশের জন্য এক বড় আশীর্বাদ। তবে যুবসমাজকে নৈতিকতা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং মানবিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। রাজনীতিতে সৎ ও শিক্ষিত মানুষের অংশগ্রহণ না থাকলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে। রাজনীতিকে ভয় পেয়ো না। আজকের যুবসমাজই আগামী দিনের দেশের নির্মাতা। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে যুবকদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা উচিত বলে তিনি দাবি করেন।

Dainik Digital: