দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারী: পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার ত্রিপুরা বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন ত্রিপুরা হাইকোর্ট সহ রাজ্যের জেলাগুলিতে সকাল ৯ টা থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভোট চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি স্বপন চন্দ্র দাস জানান, হাইকোর্ট ছাড়াও বিশালগড়, সোনামুড়া, উদয়পুর, বিলোনীয়া, খোয়াই, কৈলাসহর, কমলপুর ও ধর্মনগরে ভোট নেওয়া হয়। মোট ১ হাজার ৪৯৬ জন আইনজীবী এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে আগরতলাতেই ভোট দিয়েছে ৯৮৯ জন আইনজীবী। এই নির্বাচনে মোট ১১ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ত্রিপুরায় দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হচ্ছে, অন্ধপ্রদেশ ও দিল্লীর সঙ্গে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারী সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্তি হাইপাওয়ার কমিটি ও দুইজন গণনা বিশেষজ্ঞ রাজ্যে পৌঁছাবেন। ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। এবার বার কাউন্সিলের নির্বাচনে বিজেপি লিগ্যাল সেলের নয়জন প্রার্থী, সিপিআইএমের চারজন প্রার্থী, কংগ্রেস লিগ্যাল সেলের দুই জন প্রার্থী এবং দুজন নির্দল প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বার কাউন্সিলের বর্তমান চেয়ারম্যান রতন দত্ত জানান, ভোটে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। গোটা রাজ্যেই আইনজীবীরা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। জেলাগুলিতে প্রায় অধিকাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। সব জায়গায় শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। বিলোনীয়া ৭৮ জন আইনজীবী, উদয়পুরে ৬৭ জন, বিশালগড়ে ৫১ জন, সোনামুড়ায় ৩৯ জন, কমলপুরে ৫৮ জন, কৈলাসহরের ৭৫ জন, ধর্মনগরে ১৩৯ জন, আগরতলায় ৯৮৯ জন ভোট দিয়েছেন। সবার ভোট ব্যালেট বাক্সে সিল করা হয়েছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হবে গণনা। বার কাউন্সিল কাদের দখলে যাবে জানা যাবে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারী ভোট ঘোষণার পর। এবার ত্রিপুরা বার কাউন্সিল নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ৬৭১ জন। ভোটের হার ৮৮ শতাংশ।
এদিকে, বার কাউন্সিল নির্বাচনে ভোট দানে বিরত ছিলেন আইনজীবী প্রণব সরকার। সর্বোচ্চ মামলায় জয়ী হওয়ার পর তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। এ বিষয়ে শ্রী সরকার জানান, নৈতিকতার প্রশ্নে তিনি ভোট দানে বিরত ছিলেন। কারণ, গত ২৯ বছর ধরে বারের নির্বাচনে ভোট প্রদান করার পরও, এবার মিথ্যা অভিযোগ তুলে তার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে একজন আইনজীবী হলেও অভিযোগ তুলেছেন, তাই নৈতিকতার প্রশ্নে ভোট দানে বিরত থেকেছেন।