‘
অনলাইন প্রতিনিধি :-জাতীয় গানের মর্যাদা আরও জোরদার করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর মতোই এ বার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরিবেশিত হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’। গান চলাকালীন উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বুধবার সকালে প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’-এর মোট ছ’টি স্তবক ১৯০ সেকেন্ডে, অর্থাৎ ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে পরিবেশন করতে হবে। পাশাপাশি, কোন কোন সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গান গাওয়া বাধ্যতামূলক হবে, তাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।নির্দেশিকা অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়, রাষ্ট্রপতির সরকারি অনুষ্ঠানে আগমন ও প্রস্থানের সময়ে, জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে ও পরে, রাজ্যপাল ও উপরাজ্যপালের উপস্থিতিতে আয়োজিত সরকারি কর্মসূচিতে, নাগরিক সম্মান বা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এবং কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা আনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা আবশ্যক।বর্তমানে যেসব অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের রীতি রয়েছে, সেখানে আগে জাতীয় গান এবং তার পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এই সময় সকলকে উঠে দাঁড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলানোরও পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।চলতি বছর দেশাত্মবোধক গান ‘বন্দে মাতরম’-এর রচনার ১৫০ বছর পূর্তি পালিত হচ্ছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানটি ১৮৭৫ সালে রচিত হয় এবং পরে ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রকাশিত হয়। ১৮৯৬ সালে প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গান পরিবেশন করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক। সংবিধানে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি এই গানকেও বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হলেও এত দিন পর্যন্ত গানটি গাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনও বিধি ছিল না।সূত্রের খবর, জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে গত জানুয়ারিতে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক বৈঠকে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তখন থেকেই নতুন নির্দেশিকা আসতে পারে বলে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর করল কেন্দ্র।
নির্দেশিকায় স্কুলগুলিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সকালবেলার প্রার্থনা বা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয় পতাকা, জাতীয় গান ও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া, আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারি কর্মসূচি না হলেও মন্ত্রীদের উপস্থিতির কারণে কোনও অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলে, সেখানেও জাতীয় গান পরিবেশন করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সিনেমার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রাখা হয়েছে। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদি কোনও ছবির দৃশ্যে জাতীয় গান ব্যবহার করা হয়, সে ক্ষেত্রে দর্শকদের উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক নয়। মন্ত্রকের মতে, এতে উঠে দাঁড়ালে সিনেমা দেখায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং অযথা বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।