অনলাইন প্রতিনিধি :-গত ২৫ জানুয়ারী কলকাতার পশ্চিম বেহালা বিধানসভার অন্তর্গত সখের বাজার এলাকায় আয়োজিত বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার তাকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দলের সহকারী প্রভারি হিসাবে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে।এদিন সন্ধ্যায় আয়োজিত এই সভায় তৃণমূলের দুষ্কৃতী বাহিনী বিপ্লব দেবের ভাষণ চলাকালীন সময়েই উৎপাত শুরু করে। বিজেপির দলীয় পতাকা ও ফেস্টুন ইত্যাদি ছিঁড়ে ফেলতে থাকে। ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, পুলিশের বৈধ অনুমতি থাকা সত্বেও বিপ্লব দেবের সভাস্থলের একেবারে কাছেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীবাহিনী একাধিক মাইক বেঁধে উচ্চস্বরে স্লোগান ও চিৎকার করতে থাকে।এই পরিস্থিতির মধ্যেও শ্রীদেব তার ভাষণ চালিয়ে যান এবং তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে এই সরকারকে
উৎখাত করার আহ্বান জানান বঙ্গের জনগণের কাছে। ভাষণ শেষ করে শ্রীদেব মঞ্চ থেকে নেমে যেতেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীবাহিনী তাণ্ডব শুরু করে। সভার চেয়ার থেকে শুরু করে মঞ্চ ভেঙে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সবথেকে বিস্ময়কর ঘটনা হলো, তৃণমূল দুষ্কৃতী বাহিনীর এই তাণ্ডব চলতে থাকে দীর্ঘসময় ধরে এবং পুলিশের সামনেই। পুলিশ ছিলো একেবারেই নীরব দর্শকের ভূমিকায়। বরং নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থেকে পুলিশ তামাশা দেখেছে।অথচ এই ঘটনা থেকে বড় ধরনের বিপদ হয়ে যেতে পারতো। কেননা, একেবারে পাশেই ছিলো একটি পেট্রোল পাম্প।এই হামলার ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এবং ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিপ্লব কুমার দেবের সভায় তৃণমূল দুষ্কৃতী বাহিনীর হামলা ও মঞ্চে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একই সময়ে, একই জায়গায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে তৃণমূল সরকারকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। কিন্তু বিস্ময়কর ঘটনা হলো, এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলো ত্রিপুরা। ঘটনার ৭২ ঘন্টা পরেও রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ মিছিল কিংবা প্রতিবাদ সভা লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকী এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি, প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিপ্লব কুমার দেব ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান সাংসদ। বহিঃরাজ্যে তার একটি সভায় তৃণমূল দুষ্কৃতী বাহিনীর হামলা ও সভামঞ্চে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটলেও রাজ্য বিজেপি রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকায়। স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়ে রাজ্য রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে এবং নানা ধরনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।