দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ৫ মার্চ: আবারও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় আরক্ষা দপ্তরের অধীনে ৬০৬৭টি স্পেশাল এগজিকিউটিভ পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হচ্ছে। স্পেশাল এগজিকিউটিভ পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠাল আইন দপ্তর। মহাকরণ সূত্রে খবর ৬০৬৭টি স্পেশাল এগজিকিউটিভপদ সৃষ্টি এবং নিয়োগের বৈধতা নিয়ে আইন দপ্তরের মতামত জানতে চাইলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা জানিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে খোদ আইন দপ্তর। ফলে সহজেই অনুমেয় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশবাঁও জলে। এরপরই ধরে নেওয়া যায় যে, স্পেশাল এগজিকিউটিভ পদে নিয়োগ হিমঘরে চলে গেল।
জানা গিয়েছে ২০২২ সালে রাজ্যে পুলিশের অধীনে ৬০৬৭টি পদে স্পেশাল এগজিকিউটিভ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। এই বিজ্ঞাপন মোতাবেক স্পেশাল এগজিকিউটিভ পদে চাকরির জন্য হাজার হাজার বেকার আবেদন করে।
স্পেশাল ২০২২ সালে এগজিকিউটিভ পদের জন্য কোনো নিয়োগ পরীক্ষা হয়নি। ওই সময়ে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের অজুহাতে ইন্টারভিউ নেয়নি সরকার। প্রতিশ্রুতি ছিল ভোটের ফলাফলের পরই স্পেশাল এগজিকিউটিভ পদের নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। এমনকী ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে বেকারদের চাকরির অফার প্রদান করবে সরকার বলেও শোনা গেছিল।
বিস্ময়ের ঘটনা হলো ২০২৩ সালে ত্রিপুরাতে নতুন সরকারও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্পেশাল এগজিকিউটিভপদের নিয়োগ প্রক্রিয়া অধরা। যদিও ২০২৩ সাল থেকে রাজ্যে লাগাতর বেকার বিক্ষোভের চাপে পড়ে আবেদনপত্র সংগ্রহের প্রায় দু-বছর বাদে নিয়োগ পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা হয়।
বেকার বিক্ষোভে ২০২৪ সালের আগষ্ট মাসে স্পেশাল এগজিকিউটিভপদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের পর দু বছর অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। জানা গিয়েছে আইন দপ্তরের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে পেরে স্পেশাল এগজিকিউটিভ পদের নিয়োগ আপাতত বাতিল করার পথে এগোচ্ছে সরকার। সম্পূর্ণ আমলা নির্ভর হয়ে পড়ার দৌলতে বিভিন্ন চাকরির ইস্যুতে ল্যাজে গোবরে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়ে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে মামলা হচ্ছে। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বেকারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে যে স্পেশাল এগজিকিউটিভপদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও বাতিল হতে যাচ্ছে। যেমনটা হয়েছে ২০২২ সালে এস টি জি টি শিক্ষক পদের নিয়োগ অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের ফায়ার ম্যান এবং ড্রাইভার পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে।
চাকরি প্রার্থী বেকার যুবকদের আরও অভিযোগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দাবিতে আমাদের পথে নামতেও বাধা দিচ্ছে সরকার। পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চাকরির নামে বেকার ঠকাচ্ছে সরকার। একের পর এক নিয়োগ পরীক্ষা হলে ফলাফল প্রকাশিত হচ্ছে না। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে বয়স উত্তীর্ণ বেকার। শেষ পর্যন্ত বহু প্রতীক্ষিত স্পেশাল এগজিকিউটিভপদে নিয়োগ বাতিল হলে বেকার বিক্ষোভ রাজ্য সরকার কীভাবে সামাল দেয় তাই দেখার বিষয়।