দৈনিক সংবাদ অনলাইন, ১৩ মার্চ: প্রাক- বর্ষার মরশুমের প্রথম পশলা বৃষ্টিতে রাজধানী শহরের বেহাল চিত্র পরিলক্ষিত হল শুক্রবার। জলকাদায় একাকার গোটা শহর। কোথাও হাঁটুসমান জল দাঁড়িয়েও গেছে। অথচ বৃষ্টি হয়েছে মেরেকেটে ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট। আবহাওয়া দপ্তরের হিসাবে বৃষ্টি হয়েছে ৩২ মিমি। এতেই বিবর্ণ চেহারা ফুটে উঠেছে গোটা আগরতলা শহরের।এর থেকেই স্পষ্ট এবারের বর্ষার মরশুমে কী অপেক্ষা করছে শহরের জন্য।
যেভাবে গোটা আগরতলায় একযোগে দিকে দিকে স্মার্ট সিটির কাজে হাত দেওয়া হয়েছে এবং স্মার্ট সিটির কাজ যেভাবে আনস্মার্টভাবে হচ্ছে, তাতে শহরবাসী মাত্রই আঁতকে উঠছেন- এবারের বর্ষায় কী হবে হাল তাদের, এই ভেবে। শুক্রবারের এক পশলা বৃষ্টি একটু এর মহড়া দিল বলা চলে।
এদিন দুপুরে হঠাৎই প্রচণ্ড কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে যায়। মুহূর্তেই বৃষ্টি নামে। সঙ্গে সামান্য দমকা হাওয়া। এই বৃষ্টি শহরে প্রায় ২০ মিনিট থেকে আধ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এতেই জলকাদায় একাকার হয়ে পড়ে গোটা শহর।এটা প্রাক-বর্ষা মরশুমের প্রথম বর্ষণ।এমনিতেই এখন কালবৈশাখীর মরশুম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মার্চ-মে মাস পর্যন্ত প্রাক-বর্ষা মরশুম। এই সময়ে ঝড়-বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। সঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎ চমকানো। শিলাবৃষ্টি হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। আবহাওয়া দপ্তর তাই আগামী ৭ দিনের জন্য একটি পূর্বাভাস জারি করে পশ্চিম জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
এই সময়ের বৃষ্টি সবজির ক্ষতি করে। কারণ শীতের বিদায় এবং গরমের আগমনের সময় সবজির একটা আকাল দেখা দেয়। উপরন্তু বৃষ্টিবাদল হলে সবজির অনেকটাই ক্ষয়ক্ষতি হয়। এদিকে, মরশুমের প্রথম বর্ষণে এদিন রাজধানীর পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও স্বাভাবিক জনজীবনে ছন্দপতন ঘটে। সবচেয়ে বেহাল অবস্থা দেখা দেয় আগরতলা-খোয়াই-কমলপুর সড়কে। জাতীয় সড়কের হতশ্রী চেহারা ফের প্রকাশ্যে চলে আসে। দুর্ভোগে পড়েন শতশত যাত্রী।
দুপুরের আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। বেলা বারোটা নাগাদ ব্যাপক বর্ষণ শুরু হয়। সেই সঙ্গে তীব্র বাতাস। আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহকুমা সদরে ছিল ক্রীড়ার আসর। উদ্যোক্তা সমাজ শিক্ষা ও কল্যাণ দপ্তর। ব্যাপক বর্ষণে পরিত্যক্ত হয় খেলার আসর। কোনো কোনো জায়গায় জল জমে যায়। আমের মুকুল নষ্ট হয়। ফুলকপির ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে লেবু গাছ জল পাওয়ায় ফলন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরের ক্ষণিকের ঝড়-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবাও। বৃষ্টি, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা। বিশেষ করে জমিতে থাকা টম্যাটো থেকে শুরু করে নানা শাকসবজি শিলাবৃষ্টির জেরে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতির মুখে পড়েন চাষিরা। এদিন দুপুর থেকে শুরু হয় ঝড় ও বৃষ্টি। টানা বৃষ্টির পরই শিলাবৃষ্টি হয়। আর এই ক্ষণিকের সামান্য ঝড় ও বৃষ্টির জেরে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা।
জিরানীয়া মহকুমার রাণীরবাজার বিদ্যুৎ সাবডিভিশন, মান্দাই, বোধজংনগর, খুমুলুঙ, জিরানীয়া, চম্পকনগর এলাকার একাংশ গ্রামে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। খবর লেখা পর্যন্ত অন্ধকারে ডুবে রয়েছে বিভিন্ন এলাকা। কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ পরিবাহী তারের উপর সুপারি গাছ ও গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে। নিগমের কর্মীরা ময়দানে থাকলেও সন্ধ্যারাত খবর লেখা পর্যন্ত অন্ধকারে ডুবে রয়েছে বহু এলাকা।