অনলাইন প্রতিনিধি :- আগরতলা সেক্টরে আকাশ এয়ার আগামী ১ ফেব্রুয়ারী থেকে আগরতলা-গুয়াহাটি- বেঙ্গালুরুর মধ্যে যাতায়াতে প্রতিদিনের কমিয়ে সপ্তাহে দুইদিন করার শুধু যে তাতেই রাজ্যের মানুষ যাতায়াতে সমস্যার মুখে পড়েছেন তাই নয়। গত কয়েক বছরের মধ্যে আগরতলা সেক্টর থেকে বিভিন্ন বিমান সংস্থা একের পর এক বিমান গুটিয়ে নেওয়ায় ও রাজ্যের মানুষের বহিঃরাজ্যে যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছেন। সেই কারণে প্রায়ই বিমান টিকিটের সংকট দেখা দিচ্ছে, আবার যাত্রী ভাড়াও নাগালের বাইরে আকাশছোঁয়া নেওয়া হচ্ছে।এমনটাই অভিযোগ যাত্রী সাধারণের।বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আগরতলা সেক্টর থেকে ১১ টি বিমান সংস্থা তথা এয়ারলাইন্স বিমান পরিষেবা গুটিয়ে নেয়।যে সব বিমান সংস্থা বিমান এখন পর্যন্ত আগরতলা সেক্টর তথা আগরতলা থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয় তা হল- এয়ার ডেকান, কিং ফিসার, প্যারামাডন্ট, অ্যালান্স এয়ার, স্পাইসজেট, এয়ার ইন্ডিয়া (ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স), জেট এয়ারওয়েজ, মোদিলুফৎ, বায়ুদূত, স্কাইলিন (এনএপিসি), ফ্লাইবিগ।
এই সব বিমান সংস্থার বিমান বিভিন্ন সময় আগরতলায় পরিষেবা চালু ছিল। রাজ্যের মানুষ বহিঃরাজ্যে যাতায়াতে ভালো সুবিধা পেতেন। তার মধ্যে সাহারা এয়ার লাইন্স কয়েকবছর আগে আগরতলায় বিমান পরিষেবা চালু করবে বলে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েও চালু করেনি। বাম, রাম আমলেই উঠেছে বিমান। ফলে আগরতলা সেক্টর থেকে একের পর এক বিমান গুলি উঠিয়ে নেওয়ায় তার খেসারত দিতে হচ্ছে রাজ্যের মানুষকে। এখন আগরতলা সেক্টরে শুধু তিনটি বিমান সংস্থার বিমান চালু রয়েছে। ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়ার এক্সপ্রেস ও আকাশার।তার মধ্যে আকাশ আবার ১ ফেব্রুয়ারী থেকে বিমান কমিয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিন ইন্ডিগোর ১৩ টি বিমান বিভিন্ন জায়গা থেকে আগরতলায় আসে। আবার গন্তব্যস্থলে ফিরে যায়। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রতিদিন তিনটি বিমান বিভিন্ন জায়গা থেকে আগরতলায় আসে। আবার গন্তব্যস্থলে ফিরে যায়। আকাশার একটি বিমান প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা হয়ে আগরতলায় এলেও ১ ফেব্রুয়ারী থেকে সপ্তাহে দু’দিন সোম ও শুক্রবার আসবে ও ফিরে যাবে। বড় শহরগুলির মধ্যে আগরতলার সঙ্গে এখনো সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হয়নি মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে।উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যের মধ্যে শুধু আসাম ও মণিপুরের সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু রয়েছে। বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণের গতি না থাকায় তার মাশুল দিচ্ছেন রাজ্যের মানুষ। বহিঃরাজ্যের পর্যটকরাও রাজ্যের অপর্যাপ্ত বিমান তার পরিষেবায় সমস্যায় পড়ছেন।কৈলাসহর বিমানবন্দরকে পুনরায় চালু করে বিমান পেিষবা চালু করা হবে বলে গত কয়েক বছরে বার বার রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
বিস্ময়ের ব্যাপার হলো ডবল ইঞ্জিন সরকারের সময়ের আট বছরেও কৈলাসহর বিমানবন্দর চালু হয়নি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমূল সংস্কার করে কৈলাসহর বিমানবন্দর কবে চালু হবে, আদৌ চালু হবে কিনা সেই বিষয়ে রাজ্য সরকার ও এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার আগরতলা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কেউ কিছু বলতে পারছেন না। রাজ্যের আরও দুটি বিমানবন্দর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কমলপুর ও খোয়াই বিমানবন্দর পুনরায় চালু করারও কোনও উদ্যোগ নেই।২০২১ সালের জানুয়ারী মাসে এমবিবি আগরতলা বিমানবন্দরের নতুন অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন।আজ থেকে আগরতলা বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা দেওয়ার জন্য টার্মিনাল ভবনে পৃথক লাউঞ্জ থাকলেও এই বিমানবন্দরকে কেন্দ্রীয় সরকার সরকারীভাবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে এখনও স্বীকৃতি দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ছয় বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সরকারী স্বীকৃতি আসেনি দিল্লী থেকে। সেই কারনে বিমানবন্দরের নামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিমানবন্দর নামের সাইনবোর্ডেও আন্তর্জাতিক শব্দটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লিখতে পারছেন না। বিমান বন্দরের এক আধিকারিক জানান, বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা কবে চালু হবে তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা দূর হয়নি।