নার্ভের অসুখ: মাথাব্যথা থেকে স্ট্রোক—- কী বলছে নিউরোলজি??

দৈনিক সংবাদ অনলাইন :-সাধারণভাবে 'নার্ভের অসুখ' বলতে আমরা নিউরোলজির সমস্যাকেই বুঝি।তবে অনেক সময় মানসিক বা সাইকিয়াট্রিক সমস্যার সঙ্গে স্নায়ুর অসুখকে গুলিয়ে ফেলা হয়, যা ঠিক নয়। নার্ভের অসুখের পরিধি অনেক বিস্তৃত এবং এর মূল কেন্দ্র হল আমাদের মস্তিষ্ক বা ব্রেন। বর্তমান জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি ও অনিয়মিত অভ্যাস বেড়ে যাওয়ায় স্নায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার প্রকোপও বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত উপসর্গ হল মাথাব্যথা।
মাইগ্রেন: একদিকে ধপধপ করা ব্যথা মাইগ্রেন একটি বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা, যার ক্ষেত্রে প্রায়ই পারিবারিক ইতিহাস লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত মাথার একদিকে ধপধপ করে ব্যথা হয়। ব্যথার সময় রোগী চড়া আলো বা শব্দ সহ্য করতে পারেন না।অনেক সময় অন্ধকার, নিরিবিলি ঘরে শুয়ে থাকলে বা একটানা ঘুমালে ধীরে ধীরে আরাম মেলে। চড়া রোদে ঘোরাঘুরি, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা, রাত জাগা বা তীব্র গন্ধের সংস্পর্শে এলে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। তাই এই ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চললে মাইগ্রেনের আক্রমণের ব্যবধান বাড়ানো সম্ভব। রোদে বেরলে সানগ্লাস ব্যবহার, পর্যাপ্ত জল পান, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ--- এই সবকিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যোগব্যায়াম ও ধ্যান মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে উপকার দেয়।
টেনশন হেডেক: গোটা মাথা জুড়ে ব্যথা
টেনশনজনিত মাথাব্যথা মাইগ্রেনের থেকে আলাদা।এই ক্ষেত্রে ব্যথা সাধারণত গোটা মাথা জুড়ে হয়, একদিকে সীমাবদ্ধ থাকে না।বেশিরভাগ সময় বমি ভাব থাকে না এবং আলো বা শব্দ সহ্য করতে সমস্যা হয় না। মানসিক চাপ কমালে এই ধরনের মাথাব্যথা দ্রুত কমে যায়। বিশেষ করে পড়াশোনার চাপ বেড়ে গেলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে টেনশন হেডেক দেখা যেতে পারে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মাথাব্যথার অন্যান্য কারণ:-মাথাব্যথার কারণ শুধু মাইগ্রেন বা টেনশন নয়। মাথায় রক্তপাত, সংক্রমণ কিংবা মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের চাপ বেড়ে গেলেও মাথাব্যথা হতে পারে।যদিও এই কারণগুলি সব ক্ষেত্রে দেখা যায় না, তবুও প্রয়োজনে সঠিক পরীক্ষা জরুরি।
স্ট্রোক: একটি গুরুতর স্নায়ুজনিত অসুখ স্ট্রোক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুজনিত রোগ। মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেলে অথবা রক্তনালি ফেটে রক্তপাত হলে সেই অংশের স্নায়ুকোশ নষ্ট হয়ে যায়--- এই অবস্থাকেই স্ট্রোক বলা হয়। মূলত স্ট্রোক দুই ধরনের-একটি হল রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া (ইস্কেমিক স্ট্রোক) এবং অন্যটি হল রক্তনালি ফেটে রক্তপাত হওয়া (হেমোরেজিক স্ট্রোক)। সেই কারণে ছোটখাটো কোনও সমস্যা হলেও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
Dainik Digital: