নতুন ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার: মুখ্যমন্ত্রী

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৩ ফেব্রুয়ারী: উদয়পুরে ৮৩ কোটিরও বেশি টাকার তিন প্রকল্পের ভার্চুয়াল শিলান্যাস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার বিকেল তিনটায় গোমতী জেলার উদয়পুরে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।

শুক্রবার উদয়পুরের জগন্নাথ দিঘির পূর্ব পাড়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মোট ৮৩ কোটি ৫৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়। এর মধ্যে ছিল উদয়পুর এসটিপি প্রকল্প, রিভার ফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প এবং গোমতী জেলার অধীনে একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পগুলির সঙ্গে আরও প্রায় ১৩০০ কোটির টাকার উন্নয়নমূলক কাজ ধাপে ধাপে যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, এক সময় বিহার ও উত্তর প্রদেশে জাতপাতের রাজনীতি প্রাধান্য পেত। এখন সেই রাজনীতি বদলে গিয়ে উন্নয়নমুখী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে চারটি জাত-গরিব, কৃষক, মহিলা ও যুবক। এই চার শ্রেণির উন্নয়ন হলেই দেশের উন্নয়ন হবে। বিরোধীদের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকার শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গ্রামীণ এলাকার অন্তিম ব্যক্তির কাছে পৌছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিচ্ছে।

জনজাতি উন্নয়ন ও ‘নতুন ত্রিপুরা’ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন জনজাতিদের নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। এখন তারা সচেতন। আগামী দিনের ফলাফলই তার প্রমাণ দেবে। তিনি বলেন, আগে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ বললেও এখন সরকারের লক্ষ্য ‘নতুন ত্রিপুরা গড়া’ গত এক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমায় প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধন হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ত্রিপুরায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত পর্যন্ত পেপারলেস ই-অফিস চালু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গোয়া ও মিজোরামের পর ত্রিপুরা পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষণা হয়েছে। ৯৫.৬ শতাংশ সাক্ষরতার হার নিয়ে রাজ্য আজ দেশের তৃতীয় স্থানে।

তিনি বলেন, ত্রিপুরার ছেলেমেয়েরা আজ সারা ভারতে নাম করছে- গান, বাজনা, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য-সবক্ষেত্রেই। জাতীয় ও আঞ্চলিক স্তরে মোট ৩৪৭ টি পুরস্কার অর্জনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনার কথা উল্লেখ করে জানান, দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ মেধাবী ১৪০ জন ছাত্রীকে বিনামূলে স্কুটি প্রদান করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সংবাদ মাধ্যম থেকে বিনামূল্যে তথ্য পাই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ, পরিকল্পনা ও সমন্বয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, রামপদ জমাতিয়া, জিতেন্দ্র মজুমদার, পৌরপিতা শীতল চন্দ্র মজুমদার, সমাজসেবী সবিতা নাগ, গোমতী জেলার পুলিশ সুপার কিরন কুমার কে প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন গোমতী জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু লাথের এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেব রায়।

Dainik Digital: