অনলাইন প্রতিনিধি :- দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট করে কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশ করলো জাতীয় ফ্রিকোয়েন্সি অ্যালোকেশন প্ল্যান-২০২৫ (এনএফএপি-২০২৫)। ত্রিশ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ৬জি প্রযুক্তির জন্য আগাম স্পেকট্রাম সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর ফলে আগামীদিনে দেশের মোবাইল ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও স্মার্ট প্রযুক্তির বিস্তারে নতুন দিগন্ত খুলে গেলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।কেন্দ্রীয় টেলিকম দপ্তর (ডিওটি) সূত্রে জানা গেছে, এনএফএপি-২০২৫ অনুযায়ী ৬৪২৫-৭১২৫ মেগাহার্টস ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড আন্তর্জাতিক মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন বা আইএমটি পরিষেবার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই ব্যান্ড ভবিষ্যতের ৫জি অ্যাডভান্সড ও ৬জি পরিষেবার মূল ভিত হিসাবে কাজ করবে।পরিষেবাই নয়, বরং স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড, ইন-ফ্লাইট কানেক্টিভিটি, মেরিটাইম যোগাযোগ, জিপিএস নেভিগেশন, স্মার্ট সিটি ও আইওটি প্রযুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রের জন্য আলাদা আলাদা স্পেকট্রাম নির্দিষ্ট করে এই পরিকল্পনায় শুধু মোবাইল দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন যোগাযোগ পরিষেবার গুণমান বাড়বে, অন্যদিকে বিভিন্ন পরিষেবার মধ্যে ফ্রিকোয়েন্সি সংঘর্ষ বা ইন্টারফেয়ারেন্সের সম্ভাবনা কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বোত্তর রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এই পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় উন্নত নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিতে লো ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড এবং শহরাঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট দিতে মিড ও হাই ব্যান্ড ব্যবহার করা হবে। এর ফলে ত্রিপুরা, মিজোরাম, মণিপুর ও অরুণাচলের মতো রাজ্যে ডিজিটাল পরিষেবা আরও স্থিতিশীল ও বিস্তৃত হবে।এছাড়াও এনএফএপি-২০২৫ ভবিষ্যতের স্পেকট্রাম নিলামের ভিত্তি তৈরি করবে। কোন ব্যান্ড নিলামে তোলা যাবে, কোনটি সরকারী ও নিরাপত্তা পরিষেবার জন্য সংরক্ষিত থাকবে সেসবের রূপরেখাও এই নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, এনএফএপি-২০২৫ কেবল একটি প্রশাসনিক নথি নয়। এটি ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির জন্য একটি স্ট্র্যাটেজিক রোডম্যাপ।সব মিলিয়ে বলা যায়, এনএফএপি-২০২৫ কার্যকর হওয়ায় ভারতের টেলিকম ও ডিজিটাল অবকাঠামো এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করলো। যার সুফল আগামী কয়েক বছরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্র পর্যন্ত সকলেই পেতে চলেছেন।