দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেবিজেপি শাসিত রাজস্থান পারলেও ব্যতিক্রম ত্রিপুরা

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারী: জল জীবন মিশনের বরাদ্দ অর্থের দুর্নীতির জন্য রাজস্থানে নয়জন ইঞ্জিনীয়ার গত বুধবার গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু ত্রিপুরায় জল জীবন মিশনের দুর্নীতির তদন্ত রিপোর্ট এখনও সাতবাও জলের তলায়। বিজেপি শাসিত রাজস্থানে জল জীবন মিশনের বরাদ্দ অর্থের লোপাট বাণিজ্য নিয়ে কঠোর সেখানের রাজ্য সরকার। রাজস্থানে ত্রিপুরার মতো জল জীবন মিশনের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ঘিরে তোলপাড়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নয়জন ইঞ্জিনীয়ারকে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প জল জীবন মিশনে দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপি শাসিত দুই ভিন্ন রাজ্যের প্রশাসনিক অবস্থান এখন তীব্র আলোচনায়। একদিকে রাজস্থানে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে ধৃত নয়জন ইঞ্জিনীয়ার। অন্যদিকে, ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর, কুমারঘাট পানীয় জল সম্পদ দপ্তরের সাব ডিভিশনে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান শাস্তিমূলক পদক্ষেপের অভাব। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত চিফ ইঞ্জিনীয়ার অনুপ কুমার দাস। এই বৈপরীত্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। বিজেপি শাসিত রাজস্থান রাজ্যে ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পরই সক্রিয় হয় রাজস্থান এসিবি (অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো)। গত বুধবার কোটি কোটি টাকার কাজ বন্টন ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে নয়জন ইঞ্জিনীয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনীয়ারিং ডিপার্টমেন্টের (পিএইচইডি) কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। পুরনো কাজের অভিজ্ঞতার ভুয়ো শংসাপত্র দেখিয়ে দুটি নতুন সংস্থাকে বিশাল অঙ্কের বরাত পাইয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ সংস্থাগুলিকে কৌশলে সরিয়ে দিয়ে
নতুন সংস্থাগুলিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে একটি কাজের টেন্ডার ডাকা হলেও অংশগ্রহণকারী সংস্থার পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়াই বাতিল করা হয়। পরে পুনরায় টেন্ডার ডাকা হলে আগের সংস্থাগুলি আর অংশ নিতে পারেনি এবং নতুন সংস্থাগুলি বরাত পায়।

এই ঘটনার তদন্তে জয়পুর, বারমের, সিকার, জালোর, দিল্লী, বিহার সহ প্রায় পনেরোটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় এসিবি। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে ডিজিটাল ডিভাইস, ডায়েরি, ব্যাঙ্ক লেনদেনের নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। এক অবসরপ্রাপ্ত চিফ সেক্রেটারি ও এক প্রবীণ আইএএস আধিকারিকের নামও তল্লাশির তালিকায় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া নথি যাচাই করে আরও বড় চক্রের সন্ধান মিলতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

অন্যদিকে, ত্রিপুরায় ‘জল জীবন মিশন’ ঘিরে একাধিক অভিযোগ উঠলেও তা নিয়ে প্রশাসনিক কঠোরতার দৃশ্যমান উদাহরণ নেই। নিম্নমানের কাজ এবং আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত থাকলেও এর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেই। বিশেষ করে যখন অন্য রাজ্যে একই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দ্রুত গ্রেপ্তারি ও তল্লাশি চলছে তখন ত্রিপুরা সরকারের নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। রাজস্থানে যে দ্রুততার সঙ্গে এসিবি তদন্তে নেমেছে এবং একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রমাণ ও ব্যাঙ্ক নথি জব্দের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘জল জীবন মিশন’ সরাসরি গ্রামীণ পরিবারের পানীয় জলের অধিকারের সঙ্গে যুক্ত এখানে অনিয়ম মানে জনস্বার্থের ক্ষতি। সব মিলিয়ে একদিকে রাজস্থানে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার নয়জন ইঞ্জিনীয়ার এবং সেখানে বহুমুখী তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ত্রিপুরায় অভিযোগের পরও কোনও আইনি ব্যবস্থা নেই। এই দুই চিত্র এখন প্রশাসনিক নৈতিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজস্থান সরকার দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও ত্রিপুরা রাজ্যে দুর্নীতিবাজ পানীয় জল সম্পদ দপ্তরের ইঞ্জিনীয়াররা বহাল তবিয়তে আছে। রাজ্যের পানীয় জল সম্পদ দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনীয়ার অনুপ কুমার দাসকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি শুধু একটা কথাই বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। কিন্তু শাক দিয়ে মাছ ঢাকার তথ্য সামনে এসেছে।

Dainik Digital: