ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, গবেষণার মান উন্নয়ন বৈঠক করলেন আচার্য জাভেদ

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৩ ফেব্রুয়ারী: ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল হলে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন আচার্য আহমেদ জাভেদ। বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর শ্যামল দাস, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারার প্রফেসর সমীর শীল, ফিনান্স অফিসার দেবাশিস পাল সহ অন্যান্য অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ও আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজ্যে এসেই ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করেছেন আচার্য আহমেদ জাভেদ। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন বিভাগের প্রফেসররা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান সমস্যাগুলি আচার্য আহমেদ জাভেদের এর কাছে তুলে ধরেন। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার মান উন্নয়ন এবং গবেষকদের বিভিন্ন সাফল্য কীভাবে সারা দেশে তুলে ধরা যায়-এই বিষয়েও আলোকপাত করেন সিনিয়র প্রফেসররা।

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর শ্যামল দাস গত তিন মাসে কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এতে শিক্ষক কর্মচারীদের কী কী সুবিধা হবে, ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের স্বার্থে গৃহীত পদক্ষেপগুলি তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামীদিনের পরিকল্পনাগুলি নিয়েও আলোচনা

করেন তিনি। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টারার প্রফেসর সমীর শীল আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিগুলি নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষক কর্মচারীদের সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার নিরসন। ফিনান্স অফিসার দেবাশিস পাল আর্থিক বিষয়গুলি আচার্যের কাছে তুলে ধরেন।

প্রফেসর অলক ভট্টাচার্য, প্রফেসর সায়ন রায় চৌধুরী, প্রফেসর সোমদেব বণিক, প্রফেসর বাদল দত্ত, প্রফেসর চিন্ময় রায়, অধ্যাপক সুনীল কলই বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বৈঠকে আচার্য আহমেদ জাভেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা নেবেন। প্রয়োজনে প্রত্যেক দু’মাস অন্তর অন্তর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন। তিনি বলেন, ভারত সরকারের সাথে বৈঠকের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী কাজগুলি সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরার তিনি পরামর্শ দেন। বৈঠকশেষে তিনি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া ছাত্রাবাস, স্টাফ কোয়ার্টার উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্তশিল্প প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন।

উল্লেখ্য, বৈঠকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ গঠনের বিষয়টিও উঠেছে। তবে ভারত সরকার এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র সংসদ গঠন করা যাবে না। এটাই আইন। যা সারা দেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগু রয়েছে। শুধুমাত্র ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইন পরিবর্তনের সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পরিবর্তন করতে গেলে লোকসভা এবং আইনসভায় প্রথমে ওঠাতে হবে। এরপর সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেলেই আইন পরিবর্তন সম্ভব হতে পারে।

এদিকে, শুক্রবার ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহারাজা বীর বিক্রম হলে, আচার্য আহমেদ জাভেদকে সংবর্ধনা দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর শ্যামল দাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রারার প্রফেসর সমীর শীল, ফিনান্স অফিসার দেবাশিস পাল, প্রফেসর শংকর নাথ তিওয়ারি, প্রফেসর অলক ভট্টাচার্য সহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে আচার্য আহমেদ জাভেদ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, রেজিস্ট্রারার সহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষা সহ সর্বক্ষেত্রে মান উন্নয়ন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হচ্ছে। এর সুফল পাচ্ছেন ত্রিপুরার হাজারো ছাত্রছাত্রী।

Dainik Digital: